ENGLISH ঢাকাঃ শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮, ০৯:২৯

প্রকাশিত : রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ০৩:৪৮:৪৪ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

পিলখানা ট্র্যাজেডির ৯ বছর

দ্যা ডেইলি ডন

পিলখানা ট্র্যাজেডির ৯ বছর আজ। এখনো এ ঘটনায় বিস্ম্ফোরক আইনের দায়ের করা মামলার বিচার শেষ হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, আসামিপক্ষের আইনজীবীদের সহযোগিতা পাওয়া গেলে চলতি বছরের মধ্যে বিস্ম্ফোরক মামলার বিচার শেষ করা যাবে। এখন পর্যন্ত এ মামলায় ৫০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৮ মার্চ এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে। তবে আসামি পক্ষের আইনজীবী বলছেন, পিলখানা ট্র্যাজেডির ঘটনায় হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় পাওয়া গেলেও বিস্ম্ফোরক মামলা বিচারাধীন থাকায় প্রায় ৫০০ আসামি কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। যদিও হত্যা মামলায় তাদের অনেকের সাজার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে একই অপরাধে পৃথক ধারায় মামলা থাকায় কারাগারে রাখা হয়েছে। ন্যায় বিচারের জন্য হত্যা মামলার মতো বিস্ম্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলার দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি চায় আসামিপক্ষ। 

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি দাবি-দাওয়ার নামে পিলখানায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস-বিডিআরের উচ্ছৃঙ্খল জওয়ানরা বিদ্রোহ শুরু করেন। এ সময় বুলেটে প্রাণ হারান ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন। পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ দেখে গোটা বিশ্ব। পিলখানা ট্র্যাজেডির পর বিডিআরের নাম, লোগো ও পতাকা পরিবর্তন করা হয়। এ বাহিনীর নাম পাল্টে রাখা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি। পরিবর্তন করা হয় বাহিনীর  আইন। বিজিবি কর্মকর্তারা বলছেন, এখন পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়িয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এরই মধ্যে নিজস্ব আইনে অভিযুক্তদের বিচারও শেষ হয়েছে। 

পিলখানা ট্র্যাজেডির ঘটনায় হত্যা ও বিস্ম্ফোরক আইনে প্রথমে চকবাজার থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে মামলা দুটি নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তর করা হয়। হত্যা মামলায় শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর রায় দেন ঢাকার একটি বিশেষ জজ আদালত। রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও ২৭৭ জন খালাস পান। মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ১৪ জন এখনও পলাতক। গত ২৭ নভেম্বর হাইকোর্ট পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার দায়ে অন্যতম পরিকল্পনাকারী ডিএডি তৌহিদসহ ১৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রাখেন। ওই রায়ে ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়। ১৯৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন হাইকোর্ট। খালাস পান ৪৯ আসামি। 

হাইকোর্টের দেওয়া রায় প্রায় তিন মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি প্রকাশিত হয়নি। এতে মৃতুদণ্ড ও বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করতে পারছেন না। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে, আগামী মে মাসে হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশিত হবে। সেক্ষেত্রে রায়ের কপি পেতে আসামিপক্ষকে আরও দুই মাস অপেক্ষা করতে হবে। 

আদালত সূত্রে জানা গেছে, হাইকোর্টের দেওয়া সংক্ষিপ্ত আদেশের কপিতে স্বাক্ষর করা হয়েছে। এখন মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। 

এ ব্যাপারে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, 'আশা করি তাড়াতাড়ি পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি পাওয়া যাবে। যেহেতু এটা অনেক বড় রায়, তাই লিখতে সময় লাগছে। রায়ের কপি হাতে পেলে খালাসপ্রাপ্তদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।' 


বিস্ম্ফোরক মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, আসামিপক্ষ পূর্ণ সহযোগিতা করলে চলতি বছরের মধ্যে বিস্ম্ফোরক মামলার বিচার শেষ হতে পারে। আর হত্যা মামলাটি এখন কেবল আপিল বিভাগে যাওয়ার অপেক্ষা রয়েছে। 

এ মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, পিলখানা বিদ্রোহের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছিল। একটি হত্যা ও অন্যটি বিস্ম্ফোরক মামলা। হত্যা মামলাটি নিষ্পত্তি হলেও বিস্ম্ফোরক মামলাটি এখনও বিচারাধীন। হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য ইতিমধ্যে ওকালতনামায় স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়েছে। রায়ের অনুলিপি না পাওয়ায় আপিল করা যাচ্ছে না। 

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারোয়ার কাজল বলেন, আগামী মে মাসের মধ্যে হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়া যাবে। এ মামলার পলাতক ছাড়া কারাগারে থাকা ফাঁসি ও বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা আপিল করার সুযোগ পাবেন বলে জানান তিনি। 

পিলখানা ট্র্যাজেডিতে নিহতদের স্মরণে আজ বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং বিজিবি মহাপরিচালক নিহতদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।  সোমবার বিকেলে পিলখানায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। 

loading...

আরো খবর

    ট্যাগ নিউজ

    loading...

    সর্বশেষ খবর