ENGLISH ঢাকাঃ সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৬:২৭

প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ০৪:৫৮:৪৩ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

সরকারের লেজুড়বৃত্তির জন্য দুদক গঠিত হয়নি

দ্যা ডেইলি ডন

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, সরকারের লেজুড়বৃত্তি করার জন্য দুদক গঠিত হয়নি। এটি জনগণের প্রতিষ্ঠান। দেশে সুশাসনের অভাব রয়েছে, এটা বলতেই হবে। আর দুর্নীতি সুশাসনের অন্তরায়। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে জনগণকে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে হবে।

সোমবার রাজধানীতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সনাক-স্বজন, ইয়েস-ইয়েস ফ্রেন্ডস, ওয়াইপ্যাক জাতীয় সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, যারা ক্ষমতাবান, যারা ক্ষমতার শীর্ষে আছেন, তাদেরও দুদক আদালতে নিতে পেরেছে। অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে 'বড় দুর্নীতিবাজদেরও' বিচারের আওতায় আনার অঙ্গীকারের কথা বলেন তিনি। 

এ সময় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান তার কাছে জানতে চান, বড় বড় দুর্নীতিবাজ ও ক্ষমতাবানের বিষয়ে দুদক সক্রিয় নয় বলে জনমনে ধারণা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে দুদকের অবস্থানের বিষয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, কৌশলী পদক্ষেপে অগ্রসর হওয়ায় বড় দুর্নীতিবাজদের ধরতে সময় নেওয়া হচ্ছে। তবে কেউ ছাড় পাবে না। তিনি বলেন, ছোট গাছ উপড়ানো যেমন সহজ, বড় গাছ উপড়ানো তেমনই কঠিন কাজ। তাই কৌশলী হতে হয়- এটা একটা যুদ্ধ। এই যুদ্ধে এগিয়ে যেতে হয়, আবার পিছিয়েও আসতে হতে পারে।

বড় দুর্নীতিবাজদের বিচারের আওতায় আনা 'সময়ের ব্যাপার' মন্তব্য করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, সময় গুরুত্বপূর্ণ। এমন কোনো কাজ করা যাবে না যে, একটা কাজে হাত দিয়ে হাতটা তুলে নেওয়া হলো, তাতে কৌশলগতভাবে সমস্যা হয়। যদি হাত দেওয়া হয়, তখন আর হাত তুলে নেওয়া হবে না। একটি কৌশলে দুর্নীতি একেবারে কমে যাবে, তা মনে করার কোনো কারণ নেই।

দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশের দুই ধাপ অগ্রগতি প্রসঙ্গে ইকবাল মাহমুদ জানান, দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার পদক্ষেপ নিচ্ছেন তারা। কিছুটা সফলও হয়েছেন। এ জন্য সময় দিতে হবে। দেখা যাবে, কত লোক জালে আটকা পড়ে গেছে। সে জন্য তারা মাঠ প্রস্তুত করছেন বলেও জানান তিনি।

টিআইবিসহ দুর্নীতিবিরোধী সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, সমালোচনা না হলে নিজেদের ভুল বোঝা যায় না। তাই সমালোচনার পথ ধরে এগিয়ে যেতে চাই। আমরা চাই, আপনারা সমালোচনা করুন।

স্বাগত বক্তব্যে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দুই ধাপ অগ্রগতি হওয়া কিছুটা স্বস্তির, তবে সন্তুষ্টির নয়। আরও অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন।

দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম হাফিজউদ্দিন খান। দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক এবং চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কারিগর-এর উদ্যোক্তা তানিয়া ওয়াহাব। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন টিআইবির সাধারণ পর্ষদের সনাক প্রতিনিধি দেলোয়ার হোসেন মজুমদার, ইয়েস প্রতিনিধি নোমান মজুমদার এবং ওয়াইপ্যাক প্রতিনিধি শাহ মো. ইমরান। বিবেক সেশন পরিচালনা করেন ড. সুমাইয়া খায়ের। ধন্যবাদ জানান টিআইবির সিভিক এনগেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক ফারহানা ফেরদৌস। এবারের সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে আইনের শাসন, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক চর্চা প্রতিষ্ঠাসহ মোট নয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। 

আরো খবর

    ট্যাগ নিউজ

    সর্বশেষ খবর