ENGLISH ঢাকাঃ শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৮:২১

প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই ২০১৭ ০৭:৫৭:৪০ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই

দ্যা ডেইলি ডন

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, শ্রীলংকাসহ আধুনিক সব গণতান্ত্রিক দেশের মতো বাংলাদেশেও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের অধীনেই আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেছেন, এটাই বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানের মূল ভিত্তি। এর বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

তোফায়েল আহমেদ আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনই সংসদ নির্বাচন আয়োজন করবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে সব ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের কাছেই চলে যাবে। সব পর্যায়ের রদবদলের দায়িত্বেও থাকবে নির্বাচন কমিশন। প্রশাসনও থাকবে নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে। ওই সময়কার সরকার শুধু রুটিন ওয়ার্কেই তাদের যাবতীয় কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ রাখবে। কোনো ধরনের নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হবে না। নির্বাচন-সংক্রান্ত সব ধরনের কর্মকাণ্ডে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা দেবে। নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে, এমন সব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকবে।

ডাকসুর সাবেক ভিপি তোফায়েল আহমেদ

বলেছেন, বিএনপির কথিত নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার নিয়ে আগামী দিনের রাজনীতিতে সংকট সৃষ্টির কোনো আশঙ্কাই নেই। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই যথাসময়ে আগামী সংসদ নির্বাচন হবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারই নির্বাচনকালীন সরকারের ভূমিকায় থাকবে। বিএনপি চাইলেও সেই নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না। এ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টিরও কোনো সুযোগ নেই।

বর্ষীয়ান এই আওয়ামী লীগ নেতা নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবির আড়ালে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ব্যাহত এবং দেশকে সংবিধানের বাইরে ঠেলে দিয়ে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করে অস্বাভাবিক সরকার আনার ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের বিষয়ে দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের প্রস্তাব বিভ্রান্তিমূলক। এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরির পাঁয়তারা মূলত সংবিধানের বাইরে একটি অস্বাভাবিক সরকার প্রতিষ্ঠার চক্রান্ত। গণতন্ত্রকে জিম্মি করার একটি অপচেষ্টা। খালেদা জিয়া নির্বাচন ও গণতন্ত্রের ধার ধারেন না। তিনি আগামী নির্বাচন সামনে রেখে নতুন চক্রান্তের জাল বুনছেন। তথাকথিত নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের প্রস্তাব দিয়ে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছেন।

নির্বাচনকালীন সরকারের দাবি প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, মূলত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকেই নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার হিসেবে দেখছে বিএনপি। তারা নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারেরই প্রবর্তন চাইছে। এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, সংবিধান অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এখন আর আইনসিদ্ধ নয়। পঞ্চদশ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলুপ্তি হয়েছে। কাজেই নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের নামে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনের কোনো সম্ভাবনাই নেই। উল্টো সহায়ক সরকার কিংবা এ ধরনের কোনো চিন্তা-ভাবনা থেকে নতুন সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা থাকবে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী পঞ্চদশ সংশোধনীর পর বিচার বিভাগকে সম্পৃক্ত করে পুরনো ধাঁচের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফের চালু করাটা কিছুতেই সম্ভব নয়। এটা জানার পরও সেই একই ধাঁচের নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি করাটা এক ধরনের মূর্খতা ছাড়া আর কিছুই না। এ দাবি করার মধ্যেই ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের বিষয়টি স্পষ্ট। বর্তমানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে স্বস্তি, শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। তিনি (শেখ হাসিনা) জাতিকে আলোর পথ দেখাচ্ছেন। সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদকে পরাজিত করে জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে নিচ্ছেন। এসব কিছু খালেদা জিয়ার সহ্য হচ্ছে না।

তোফায়েল আহমেদ এমপি ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে সাংবিধানিক রূপ দেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, যে উদ্দেশ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়েছিল, সে উদ্দেশ্যকেও তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকার সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে ভূলুণ্ঠিত করেছিল। ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতিদের চাকরির মেয়াদ বাড়িয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার আসল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে নস্যাৎ করেছিল। অর্থাৎ ওই সংশোধনীর মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের এবং দলীয় বিচারপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদকে নষ্ট করেছিল বিএনপি-জামায়াত সরকার।

'নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন করার ক্ষমতা বিএনপির নেই' এমন মন্তব্য করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আরও বলেন, বিএনপি তাদের নির্বাচনকালীন সরকারের ইস্যুতেও আন্দোলন করার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টির সুযোগ পাবে না। অতীতে এই রাজনৈতিক দলটি কারণে-অকারণে বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলনের ডাক দিলেও জনগণ সাড়া দেয়নি। জনগণ বিএনপির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তারা কিছুতেই বিএনপিকে আস্থায় নেয়নি। বিএনপিকে বিকল্পও ভাবছে না।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের নায়ক তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, রাজনীতিতে যে কোনো সময়ই আলোচনার সুযোগ থাকে। কিন্তু এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, গত নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আলোচনার প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেননি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহানুভূতি জানাতে গেলে তাকে খালেদা জিয়ার বাড়ির প্রধান ফটক থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজনীতি তো বটেই, সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এমন অসৌজন্যমূলক আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।

বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেবে বলেও প্রত্যাশা করেন তোফায়েল আহমেদ।

loading...

আরো খবর

    ট্যাগ নিউজ

    loading...

    সর্বশেষ খবর