ENGLISH ঢাকাঃ সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৬:২১

প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮ ০৩:১৭:২২ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

পেশায় শিক্ষক, করেন মানবপাচার

দ্যা ডেইলি ডন

রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের বিবিএর প্রভাষক মোহাম্মদ আছেম (৩৫)। শিক্ষকতার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারের কাজ করে আসছিলেন তিনি।গত রবিবার কারওয়ানবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দাবি, আছেম আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারীচক্রের বাংলাদেশের প্রধান নিয়ন্ত্রণকারী। 

সোমবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকতার আড়ালে আছেম এতদিন মানবপাচারের কাজ করে আসছিলেন। আছেমের মাধ্যমে সাগরপথে মালয়েশিয়ার যাওয়ার সময় অনেক বাংলাদেশি মারা গেছেন। এখনো অনেকেই আছেন নিখোঁজ।গত কয়েক বছরে কক্সবাজার সাগরপথে থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়ায় মানবপাচার এবং মুক্তিপণ আদায়ের মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক বনে গেছেন। পাচারের টাকায় টেকনাফে বাড়ি ও জমি কেনা ছাড়াও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়ও বিস্তর জমি কিনেছেন এ শিক্ষক। ইতোমধ্যে আছেম ও তার স্বজনদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে শতকোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পেয়েছে সিআইডি।
  
মোল্যা নজরুল বলেন, মানবপাচারের মার্কেটে আছেমের গোটা পরিবারই জড়িত। আছেমের বাবা ও বড় ভাই দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়া আছেন। তাদের হাত ধরেই মানবপাচার চক্রে জড়িয়ে পড়েন আছেম। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন সাগরপথে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারীচক্রের বাংলাদেশের প্রধান নিয়ন্ত্রক। গত কয়েক বছরে কক্সবাজার ও টেকনাফ দিয়ে সাগরপথে অবৈধভাবে শত শত মানুষকে চক্রটি মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছে। মালয়েশিয়া পাঠানোর পর বিভিন্ন ব্যক্তিকে তারা আটকে রেখে নির্যাতন এবং বাংলাদেশে থাকা তাদের আত্মীয়দের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করত। আছেম মুক্তিপণের টাকা তার আত্মীয়স্বজন, মা ও নিজের অ্যাকাউন্টে জমা রেখেছে এমন তথ্যও মিলেছে।

সিআইডির এ কর্মকর্তা বলেন, মোহাম্মদ আছেম একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ‘গডফাদার’। চক্রটি কয়েকটি ভাগে ভাগ হয়ে বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছে। ২০১৪ সালে এই চক্রের সদস্যরা সিরাজগঞ্জের মাসুদকে মালয়েশিয়ায় পাচার করে। এর পর পাচারকারীরা ফোনে মুক্তিপণ হিসেবে ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা দাবি করে। পরে মাসুদের বাবা আব্দুল ছালাম ইসলামী ব্যাংকের মহাখালী শাখার একটি অ্যাকাউন্টে ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা পাঠান। কিন্তু এর পরও তার ছেলে মুক্তি না পাওয়ায় এই ঘটনায় তিনি উল্লাপাড়া থানায় একটি মামলা করেন। সিআইডি মামলাটি তদন্ত করে জানতে পারে, একটি আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ চক্র এই পাচারের সঙ্গে জড়িত। সিআইডি আছেমের অর্থ লেনদেনের প্রবাহ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লিংক চার্ট থেকে একে একে জড়িতদের খুঁজে পায়। এর পর গত বছর ২ মে মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে একটি মামলা করে সিআইডি।

চক্রটি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা নিত। এ ছাড়াও নগদ ক্যাশ নিয়ে থাকে। আছেম, তার ছোট ভাই মোস্তফা, মা খতিজা বেগম এবং তার সহযোগী আরিফ, একরাম, ওসমান সারোয়ারের নামে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফে বিভিন্ন ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তারা এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা সংগ্রহ করত।

মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, আছেম মানবপাচারের টাকায় রাজধানীতে এসিএম করপোরেশন নামে একটি রিক্রুটিং এজেন্সি খোলে। এই প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টেও তার অনেক টাকা গচ্ছিত রয়েছে। সেগুলো প্রতিষ্ঠানটির ফাইন্যান্স ম্যানেজার আরিফুজ্জামান আকন্দ ওরফে আরিফ তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ইতোমধ্যে সরিয়ে নিয়েছে। আছেমের গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফের মৌলভীপাড়ায়। তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং ও মানবপাচারের তিনটি মামলা রয়েছে।

আরো খবর

    ট্যাগ নিউজ

    সর্বশেষ খবর