ENGLISH ঢাকাঃ রোববার, ২১ অক্টোবর ২০১৮, ০৩:১৩

প্রকাশিত : রোববার, ২৬ আগস্ট ২০১৮ ০৯:১৯:৪৯ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

বিয়ের টাকা জোগাড় করতে অপহরণ!

দ্যা ডেইলি ডন

বিয়ে করার আগ্রহ জন্মেছে তার।এরই মধ্যে পাত্রীও দেখেছেন ২৪ বছর বয়সী মইনুল ইসলাম।=কিন্তু বিয়ে করার মতো যথেষ্ট টাকা তো নেই। কিভাবে বিয়ে করবেন। তাই বিয়ের টাকা জোগাড় করতে  সামির নামে এক শিশুকে অপহরণ করেন মইনুল।

যে শিশুটিকে অপহরণ করেন তিনি, সেই শিশুটি তারই ছাত্র। কৌশলে সামিরকে অপহরণ করেন মইনুল। পরে সামিরের বাবার কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে মইনুল। মুক্তিপণ আদায়ের আগেই মইনুল গ্রেপ্তার হয় র‌্যাবের হাতে। গ্রেপ্তারের পর মইনুল র‌্যাবকে এসব তথ্য জানিয়েছে।

ঈদের পরদিন গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর হাতিরঝিল থানার মধুবাগ এলাকা থেকে আট বছরের শিশু সামিরকে অপহরণ করে মইনুল। বিষয়টি সামিরের বাবা র‌্যাবকে জানালে র‌্যাব প্রযুক্তি ব্যবহার করে গত শুক্রবার বিকেলে বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করে মইনুলকে। এ সময় উদ্ধার করা হয় সামিরকেও।

মইনুল র‌্যাবকে জানায়, সামিরের মা-বাবা আগে মোহাম্মদপুরে থাকতেন। ওই সময় মইনুল মোহাম্মদপুরের নূরানী তালীমূল কোরআন মাদরাসায় হাফেজি পড়াশোনা করত। লজিং থাকত সামিরদের বাড়িতে। সামিরও একটি মাদরাসায় পড়শোনা করে। এক মাস আগে অল্প বেতনে নোয়াখালী জেলার সোনাপুর সাঈদাতুল আবরার মাদরাসায় নূরানী বিভাগে শিক্ষক হিসেবে চাকরি পায় মইনুল। সে চলে যায় নোয়াখালী।মইনুলের বাড়িও নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জের কুতুবপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মনিরুল ইসলাম।  সামিরদের পরিবার মোহাম্মদপুর থেকে হাতিরঝিল থানার মধুবাগের ৩৩১/সি নম্বর বাড়িতে ভাড়া চলে আসে। সামিরের পরিবারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল মইনুলের। চাকরি পাওয়ার পর মইনুলের বিয়ে করার আগ্রহ জন্মে। বেতনের অল্প টাকা দিয়ে বিয়ের খরচ জোগাড় করা যাবে না চিন্তা করে সে সামিরকে অপহরণের সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈদের পর দিন গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে সামিরদের বাসার সামনে চলে আসে মইনুল। এ সময় বাসার সামনে খেলছিল সামির। সেখান থেকে তাকে বেড়ানোর কথা বলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। মইনুল মোবাইল ফোনে এসএমএস এবং চিঠির মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে সামিরের বাবার কাছে।

র‌্যাব ৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক এ এস এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, ওই দিনই সামিরের বাবা কাওসার আহম্মেদ পিন্টু র‌্যাব ৩-এর মগবাজার ক্যাম্পকে বিষয়টি অবহিত করেন। র‌্যাব ৩-এর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে মইনুলের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে ঢাকার বিমানবন্দর রেলস্টেশন এলাকা থেকে শুক্রবার বিকেলে তাকে আটক এবং অপহৃত শিশু সামিরকে উদ্ধার করে।

র‌্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে মইনুল জানিয়েছে সামিরকে অপহরণ করে উত্তরায় তার এক বন্ধুর বাসায় নিয়ে রাখে। পরের দিন মুক্তিপণের টাকা পাওয়ার জন্য সে বিমানবন্দর রেলস্টেশনে নিয়ে যায় সামিরকে। মইনুল র‌্যাবকে জানায়, তার বন্ধুর কোনো দোষ নেই। সে তার বন্ধুর বাসায় গিয়ে সামিরকে আত্মীয় পরিচয় দিয়ে রাখে। শিশুটির সঙ্গে তার বন্ধু ও বন্ধুর স্ত্রীকে কথা বলারও সুযোগ দেয়নি।

র‌্যাব ৩-এর এএসপি রবিউল ইসলাম বলেন, ‘শিশুটির সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। সে জানিয়েছে, মইনুল তার শিক্ষক। অপহরণের সময় মইনুল সামিরকে বলে তার মা তাকে বলেছে বেড়াতে নিয়ে যেতে। বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার পর তার মা গিয়ে তাকে বাসায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। এ কারণে সে মইনুলের সঙ্গে গেছে।’

আরো খবর

    ট্যাগ নিউজ