ENGLISH ঢাকাঃ মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮, ১২:৪৭

প্রকাশিত : বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ০৬:২৬:৩৭ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

সরকারি কলেজে সাড়ে ১২ হাজার নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব চূড়ান্ত

দ্যা ডেইলি ডন

দেশের সরকারি কলেজে সাড়ে ১২ হাজার নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে  সরকারি কলেজগুলোতে আর শিক্ষক সংকট আর থাকবে না। শিক্ষা ক্যাডারেও পদোন্নতি জটিলতা কেটে যাবে। একই সঙ্গে অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী শিক্ষা প্রশাসনে গ্রেড বৈষম্য কিছুটা দূর হবে।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘পদ সৃষ্টির বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী সব স্তরে পদ সৃষ্টির সোপান তৈরি করেছি। তাতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় গ্রেডের পদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। একাডেমিক পদগুলোও সুন্দর হবে। বেশি করে শিক্ষক নিয়োগ করা যাবে। সব কিছু মিলিয়ে সরকারি কলেজে শিক্ষক সংকট আর থাকবে না। শিক্ষার্থীরাও উপকৃত হবে। গুণগত শিক্ষা অর্জিত হবে।’

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ৭ ফেব্রæয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন নতুন পদ সৃষ্টির বিষয়টি অনুমোদন দিয়েছেন। এর আগে নতুন পদ অনুমোদন করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে পদ সংযোজন বিয়োজন করে একটি কাঠামো ঠিক করে দিয়েছে।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী ১২ হাজার ৫৮৮টি পদ সৃষ্টি হবে। এর মধ্যে অধ্যাপকের ১ হাজার ৩৮৫টি, সহযোগী অধ্যাপক ৩ হাজার ৩৫৬টি, সহকারী অধ্যাপক ৪ হাজার ৩৫১টি এবং প্রভাষক ৩ হাজার ৪৯৬টি। বর্তমানে পুরাতন সরকারি কলেজে (সদ্য জাতীয়করণ বাদে) ১৫ হাজার ৪১টি পদ রয়েছে। এরমধ্যে অধ্যাপক ৫৩৩টি, সহযোগী অধ্যাপক ২ হাজার ২১২টি, সহকারী অধ্যাপক ৪ হাজার ২৮৬টি এবং প্রভাষক ৮ হাজার ৩০টি। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান ও নায়েমের মহাপরিচালক পদটি জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী শিক্ষা ক্যাডারের তৃতীয় বা চতুর্থ গ্রেডের অধ্যাপকদের পদায়ন করা হয়। মাউশির কলেজ ও মাধ্যমিক শাখার দুই পরিচালক পদে একই গ্রেডের অধ্যাপকদের পদায়ন করা হয়। অনুমোদিত কাঠোমোয় এই চারটি পদ তৃতীয় গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। ফলে এসব পদে নিচের গ্রেডের কাউকে আর বসানো যাবে না। জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে তৃতীয় গ্রেডের অধ্যাপকরা ওই চারটি পদের দায়িত্ব পাবেন। শিক্ষা ক্যাডারে দীর্ঘদিনের দাবি দ্বিতীয় গ্রেডের সাতটি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব চ‚ড়ান্ত করা হয়েছে। আর তৃতীয় গ্রেডের ৪৮টি পদ বাড়িয়ে ৫২৪টি করার সুপারিশ করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মো. মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পদ সৃষ্টি সংক্রান্ত কমিটির সদস্য সচিব ও মাউশির ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউসুফ, বিসিএস সাধারণ শিক্ষক সমিতির সভাপতি আইকে সেলিম উল্লাহ প্রমুখ।

সভা শেষে অধ্যাপক মোহাম্মদ ইফসুফ বলেন, জনপ্রশাসন থেকে পদ সৃষ্টির প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে চ‚ড়ান্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে। তারপরে জনপ্রশাসন হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত অনুমোদন দিবেন।  প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে শিক্ষা ক্যাডারের দীর্ঘদিন বঞ্চিতরা পদোন্নতি পাবেন। পরবর্তিতে পদোন্নতি নিয়ে কোনো জটিলতা থাকবে না। নতুন পদ সৃষ্টি করা হলেও সরকারকে বাড়তি অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে না। কারণ পদোন্নতি না দিলেও শিক্ষকরা উপরের স্কেলে বেতন পাচ্ছেন। 

সূত্র আরও জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রথমে দ্বিতীয় গ্রেডের ৪৬টি পরে ৪০টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করেছিল। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সাতটি অনুমোদন দিয়েছে। তৃতীয় গ্রেডের ৪৮টি থেকে বাড়িয়ে ৫২৪ করা হয়েছে। তৃতীয় গ্রেড থেকে দ্বিতীয় গ্রেডে পদোন্নতি দেওয়া হবে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে। এ পদে শিক্ষা ক্যাডারে যোগদানের তারিখ ধরে পদোন্নতি দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, সরকারি কলেজে পদসৃষ্টির জন্য সারসংক্ষেপ প্রস্তুত ও উপস্থাপন করতে ২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবর মাউশি তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় মাউশির মনিটরিং অ্যান্ড ইভাল্যুয়েশনের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সেলিম মিয়াকে। সদস্য সচিব করা হয় মাউশির ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউসুফকে। এর আগে ২০১৫ সালে এই কমিটির সদস্য সচিবকে আহŸায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পরবর্তিতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় তা আলোর মুখ দেখেনি। 
  
মাউশির তথ্যানুযায়ী ১৯৮২ সালে গঠিত এনাম কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়। সারা দেশে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ২১৬টি সরকারি কলেজ বয়েছে। এর মধ্যে মহানগর ও জেলা শহরে ১৫৩টি এবং উপজেলায় ৬৩টি। স্নাতক পাস ৬৫টি কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে মহানগর ও জেলা শহরে ১৯টি এবং উপজেলায় ৪৬টি। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ২৬টি কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে মহানগর ও জেলা শহরে ২৩টি এবং উপজেলায় তিনটি।

আরো খবর

    ট্যাগ নিউজ

    সর্বশেষ খবর