ENGLISH ঢাকাঃ বুধবার, ২৩ মে ২০১৮, ০৩:৩৫

প্রকাশিত : শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ০৫:১৭:০০ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাবে দুটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস

দ্যা ডেইলি ডন

আগামীতে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে দুটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের কথা ভাবা হচ্ছে। যে যন্ত্রে বিনা ইন্টারনেটেও প্রশ্ন পাঠানো যাবে। তেমন ডিভাইসের একটি হলো পরীক্ষার হলে ট্যাবের মতো ছোট একটি ডিজিটাল যন্ত্র। যা পরীক্ষার্থীরা ব্যবহার করবে। এ পদ্ধতিতে ডিজিটাল 'প্রশ্নব্যাংকে'র মাধ্যমে অটোমেটিক (স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাৎক্ষণিক) প্রশ্নপত্র তৈরি হবে। 

পরীক্ষা শুরুর আগে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রশ্নের 'কোড' জানিয়ে দেওয়া হবে। পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ আসনে বসলে তাদের একটি করে ডিজিটাল ডিভাইস দেওয়া হবে। পরীক্ষা শুরুর আগে (সকাল সাড়ে ৯টায়) ডিভাইসে অটোমেটিক প্রশ্ন ভেসে উঠবে। এ জন্য সংশ্নিষ্ট সবার মতামত নিতে শিগগিরই বড় একটি সেমিনারের আয়োজন করতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর পরই এ বিষয়ে পাইলটিং শুরু হবে। মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

দ্বিতীয় বিকল্প পদ্ধতি হলো বিজি প্রেসে ছাপানো প্রশ্নপত্র সেখানেই 'রিমোট আনলক স্মার্টবক্স' নামক যন্ত্রে ভরা হবে। প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, এই ডিভাইস আনলক করার ক্ষমতাও থাকবে নিয়ন্ত্রিত। এই বক্স খুলতেও ব্যবহার করা হবে বিশেষ পিন নম্বর বা পাসওয়ার্ড, যা কেন্দ্রগুলোতে পাঠানো হবে পরীক্ষা শুরুর আধঘণ্টা কিংবা তার কম সময় আগে। ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সুযোগ থাকবে না। এ ছাড়া এই বক্সে থাকবে বিশেষ অ্যালার্ম সিস্টেম। কেউ প্রশ্নপত্রের বাক্স খোলার চেষ্টা করলেই সিগন্যাল যাবে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক উইং সূত্র এ তথ্য জানায়। 

গত মঙ্গলবার তিন মন্ত্রীর উপস্থিতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় নতুন এই পদ্ধতি চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা থেকে পদ্ধতিটি চালু হবে। এর আগে সেমিনারের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন  বৃহস্পতিবার তার কার্যালয়ে  বলেন, এ পদ্ধতিতে ইন্টারনেট ছাড়াই প্রশ্নপত্র পাঠানো সম্ভব হবে। প্রতিটি যন্ত্রের (ডিভাইস) মূল্য পড়বে আনুমানিক দেড়শ' ডলার (প্রায় ১২ হাজার টাকা) করে। সচিব জানান, তারা হিসাব করে দেখেছেন, এতে সরকারের প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা লাগবে। প্রতিটি যন্ত্র কমপক্ষে পাঁচ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে। তারা পুরো বিষয়টি ভালো করে ভেবেচিন্তে দেখছেন। শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, পরীক্ষার্থী, অভিভাবক সবাইকে নিয়ে সেমিনার করে সবার মতামত নিয়ে তারা সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবেন। যন্ত্রগুলো পরীক্ষা শেষে কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করবে। বিভিন্ন পাবলিক ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় তা ব্যবহার করা যাবে।

বিনা ইন্টারনেটেও এ যন্ত্রে প্রশ্ন পাঠানো যাবে বলে এটিকে মোটামুটি উপযোগী পদ্ধতি মনে করছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকরা। কারণ, এতে হ্যাকারদের হাতে পড়ারও ভয় থাকবে না। প্রশ্নের নিরাপত্তা বিধানের স্বার্থে এ ব্যয় খুব বেশি নয় বলে মনে করছেন পরীক্ষা-সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা। বর্তমান পরীক্ষা ব্যবস্থায় একটি এসএসসি পরীক্ষা নিতে সরকারের প্রায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয় বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে প্রশ্ন ফাঁস করা হচ্ছে। তাই তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করেই তা সামাল দিতে হবে। নতুন কোনো পদ্ধতি কতটুকু কার্যকর হবে, তা প্রয়োগের পরই পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি বলেন, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, শিক্ষকদের মধ্যে নৈতিকতার প্রয়োগ বাড়াতে হবে। তাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বর্তমান পদ্ধতিতে পরীক্ষার দিন পরীক্ষার্থীর হাতে প্রশ্নপত্র পৌঁছে দিতে অনেকগুলো ধাপ রয়েছে। এতে রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষক-কর্মকর্তার সংশ্নিষ্টতা। সচিব মো. সোহরাব হোসাইন সমকালকে বলেন, প্রচলিত পদ্ধতিতে এত শিক্ষক-কর্মচারীর সংশ্নিষ্টতা প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তিনি জানান, আগে ২২৮ জন লোক বিজি প্রেসে প্রশ্ন দেখতে পেতেন। এটা কমিয়ে ১৮ জনে নামিয়ে আনা হয়েছে। এবারের এসএসসিতে এমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া বাকি রাখা হয়নি, যা নেওয়া দরকার ছিল। তবু কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যত্যয় এড়ানো যায়নি।

শুরু হয়েছে 'প্রশ্নব্যাংক' তৈরির কাজ :এদিকে, কেন্দ্রীয় 'প্রশ্নব্যাংক' তৈরির কাজ শুরু করতে শিক্ষা বোর্ডগুলোকে এরই মধ্যে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সারাদেশে বর্তমানে ১১টি শিক্ষা বোর্ড রয়েছে। এর মধ্যে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এখনও কোনো পাবলিক পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়নি।

সচিব সোহরাব হোসাইন বলেন, প্রশ্নব্যাংকে হাজার হাজার প্রশ্ন দেওয়া থাকবে। শিক্ষা-বিশেষজ্ঞরা প্রশ্নব্যাংকে প্রশ্ন যুক্ত করার আগে তার উপযুক্ততা ও উপযোগিতা, বানান, প্রশ্নের মান ইত্যাদি বিবেচনা করে দেখবেন। এর ফলে ভুল প্রশ্ন সেখানে যাওয়ার শঙ্কা থাকবে না।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রশ্নব্যাংকে শিক্ষকরা সারাবছরই প্রশ্ন পাঠাতে পারবেন। হাজার হাজার প্রশ্ন এ ব্যাংকে জমা করা হবে। পরীক্ষার দিন তা থেকে নির্ধারিত ১০টি প্রশ্ন যন্ত্রের সাহায্যে বাছাই করে চূড়ান্ত করা হবে। ২০১৫ সাল থেকে যশোর শিক্ষা বোর্ডে প্রশ্নব্যাংক পদ্ধতির পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হয়েছে। এর অভিজ্ঞতা বেশ ভালো বলে মনে করছেন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা। 


এদিকে পাবলিক পরীক্ষা পদ্ধতি বদলানোর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার খবরে দশম শ্রেণিপড়ূয়া সারাদেশের লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর মধ্যে নানা শঙ্কা ভর করেছে। এই পরীক্ষার্থীরা আগামী বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থী। সংখ্যায় তারা ২২ লাখের বেশি।

এ প্রসঙ্গে রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম বলেন, নতুন করে কোনো পদ্ধতি চালু করার আগে ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নেওয়া প্রয়োজন। তা হলে ভবিষ্যতে নানা জটিলতা এড়ানো যাবে।

ভিকারুননিসা নূন স্কুলের মূল শাখার দশম শ্রেণির ছাত্রী শাহমিকা শাহরিন অনামিকা  জানায়, তারা ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী, তবে তাদের সেশন শুরু হয়েছে নবম শ্রেণি থেকেই। এক বছর ধরে তারা ছাপানো প্রশ্নের পুরনো পদ্ধতিতে অভ্যস্ত হয়েছে। এসএসসিতে নতুন পদ্ধতি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার নিয়ে তারা তাই উদ্বিগ্ন।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন  বলেন, যে কোনো নতুন পদ্ধতি চালু করতে গেলে নানা প্রশ্ন আসে, কিছু শঙ্কা থাকেই। তবে পর্যাপ্ত পাইলটিং না করে কোনো পদ্ধতি চালু করা হবে না। সবাইকে প্রশিক্ষণ দিয়ে অভ্যস্ত করেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

loading...

আরো খবর

    ট্যাগ নিউজ

    loading...

    সর্বশেষ খবর