ENGLISH ঢাকাঃ শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮, ০৯:৩২

প্রকাশিত : রোববার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ০২:০৫:৩০ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

নতুন মোড়কে বিএনপি

দ্যা ডেইলি ডন
:: মাহমুদুল করিম খান ::

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দি হলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠবে। খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করার প্রতিবাদে হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি দেবে বিএনপি। সংঘাত-সহিংসতায় রক্তাক্ত হবে রাজপথ। এমনটাই ধারনা ছিল সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনীতিকদের। কিন্তু রাজনীতির সেই পুরোনো বৃত্ত থেকে বেরিয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। দলটির নেতারা এটাকে নতুন মোড়কে বিএনপির আবির্ভাব মনে করছেন। রাজনীতিক বোদ্ধারা মনে করছেন, খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পরও কোন সহিংস কর্মসূচি না দিয়ে বুদ্ধিমত্তার রাজনীতির প্রমাণ দিয়েছে দলটি।

 দলটির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, শুধু নির্বাচন পর্যন্ত নয়, সবসময় শান্তিপুর্ণ পরিবেশে সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়েরও নির্দেশনা রয়েছে।খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার আগে ও পরে এমন বার্তাই ছিল নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে। ফলে দলীয় প্রধানের নির্দেশনায় শান্তিপুর্ণ কর্মসূচীতেই আছে দলটি। পাশাপাশি এই কর্মসূচীতে  জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে নানামুখী উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তির দাবিতে দলের গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

দলটির নেতারাও হিসেব-নিকেষ করে দেখেছেন, খালেদা জিয়ার মামলাকে ঘিরে বিভিন্ন ধরণের উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন তারা। কঠিন কর্মসূচি দিয়ে, মাঠে-ময়দানে গরম গরম কথা বলে কোনো ফল ঘরে তুলতে পারেনি দলটি। উপরন্তু হিতে বিপরীত হয়েছে। তাই মামলার সংখ্যা ৭৮ হাজার। আসামি প্রায় ৮ লাখ। গুম-অপহরণের শিকার হয়েছে ১২শ’র বেশি নেতাকর্মী। 

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অর্ফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছর সশ্রম কারাদন্ডসহ অর্থ দন্ডে দন্ডিত করে বিশেষ আদালত। রায়ের দিনই তাকে নাজিম উদ্দীন রোডের পুরনো কারাগারে রাখা হয়। চারদিন সাধারণ কয়েদির মতো কারাবাস করার পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে তাঁকে ডিভিশন দেয়া হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। 

রাষ্ট্র বিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহম্মেদ বলছেন, শুধু বিএনপির হঠকারি সিদ্ধান্তের কারণেই একটি একতরফা ও বিতর্কিত নির্বাচন দিয়েও টিকে গেছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। দলের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর এই প্রথম এমন মহাসংকট মোকাবেলা করছে দলটি। 

তাঁর মতে, সরকার খালেদার দুর্নীতি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে অনেক ধরনের রাজনৈতিক চাল দিয়েছিল। ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বক্তব্য-মন্তব্যে তার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সরকার চেয়েছে- মামলার রায়ের পর বিএনপিকর্মীরা বেপরোয়া প্রতিক্রিয়া দেখাবে। অবরোধ-হরতালের মতো কর্মসূচি দিয়ে ব্যাপক ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ করে সহিংস পথ বেছে নেবে। তাতে বিভিন্ন মামলা দিয়ে অবশিষ্ট নেতাকর্মীদেরও কারাবন্দি করা যাবে। বিশেষ করে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াতের সহিংস কর্মসূচি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বিএনপিকে। ওই সময়  আত্মঘাতী কর্মসূচির পর বিএনপির হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে বিভিন্ন মামলায় কারান্তরীণ করা হয়েছে। অনেকে গুম-খুনের শিকারও হয়েছেন। ২০১৪ এর ঘটনার পর জনগণ থেকে অনেকটা দূরে সরে গিয়েছিল বিএনপি। সরকারও নানা কৌশলে প্রচারণা দিয়ে এ দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতা বলেন, ২০১৪ সালে আমরা ঠেকে শিখেছি। কঠিন কর্মসূচি দিয়ে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার চেয়ে নরম কর্মসূচি দিয়ে জনগণের মাঝে টিকে থাকাটাই এই মুহূর্তে বিএনপির কৌশল। কারণ কঠিন কর্মসূচি দিয়ে, মাঠে-ময়দানে গরম গরম কথা বলে গত কয়েক বছরে কোনো ফল ঘরে তুলতে পারেনি দলটি। বরং হিতে বিপরীত হয়েছে। 

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন বলে স্বীকার করেন দলের ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, বিএনপির মূল লক্ষ্য এখন আগামী জাতীয় নির্বাচন। সে লক্ষ্যে ঠান্ডা মাথায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে চায় তারা। সহিংস কর্মসূচির জন্য সরকার যতই উসকানি দিক, সে ফাঁদে পা না দিয়ে লক্ষ্যে অটুট থেকে দলকে গোছানোর কাজেই মনোযোগ দিয়েছে বিএনপি।

দলের ভাইস-চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহাজাহন বলেন, খালেদা জিয়ার রায়কে ঘিরে কঠিন কোনো কর্মসূচি দিলে সরকার হার্ডলাইনে যাবে, সারা দেশে নেতাকর্মীদের আবারও ধরপাকড় করবে। এখন গ্রেফতার হলে সহজে জামিন হওয়ার সম্ভাবনাও কম। তাই দলটি সহনশীল কর্মসূচিতে থেকে ঐক্য ও শক্তি সঞ্চয় করছে। তবে আগামী জাতীয় নির্বাচনের মাঠ আওয়ামী লীগকে ছেড়ে দেবে না বিএনপি। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিকে জোরদার করতে আন্দোলনের বিকল্প নেই। এখনই দলের শক্তি ক্ষয় না করে নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য অপেক্ষা করছে বিএনপি। 

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির আহম্মেদ রিজভী জানান, কারান্তরীণ হলেও চেয়ারপারসনের নির্দেশনার ভিত্তিতেই কঠোর কোনো কর্মসূচি নেয়নি বিএনপি। তার নির্দেশ  মোতাবেক দলের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মী ধৈর্য ধরেছেন এবং আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। কোনো প্ররোচণাতেই বিএনপি নেতা-কর্মীরা এখন আইন হাতে তুলে নেবেন না। এ নির্দেশ শুধু কেন্দ্রে নয় তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

loading...

আরো খবর

    ট্যাগ নিউজ

    loading...

    সর্বশেষ খবর