ENGLISH ঢাকাঃ রোববার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০২:৩৩

প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ০৮ জুন ২০১৭ ১০:৪৭:৩৮ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

বিপণিবিতানে বেড়েছে ক্রেতাদের আনাগোনা

দ্যা ডেইলি ডন

পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানীর বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে ফ্যাশন হাউসগুলোও রকমারি ডিজাইনের পোশাক সাজিয়ে রেখেছেন। আকর্ষণীয় ডিজাইনের এসব পোশাক নজর কাড়ছে ক্রেতাদের। বৃহস্পতিবার বিপণিবিতানগুলোয় চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, স্বামী-স্ত্রীসহ সব বয়সী ক্রেতার ভিড় লক্ষ করা গেছে। তবে ছেলেদের পোশাকের চেয়ে মেয়েদের পোশাকের হাউসগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেশি চোখে পড়ছে। 

রাজধানীর নিউমার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, থান কাপড়ের দোকানগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ করা গেছে। মেয়েদের সালোয়ার কামিজের দোকানে ভিড় কম নয়। এখনো পুরোদমে কেনাকাটা শুরু না হলেও ক্রেতারা মার্কেট ঘুরে দেখছেন,  দাম সম্পর্কে আগাম ধারণা নিচ্ছেন। পছন্দমতো পোশাক পেয়ে গেলে কিনেও ফেলছেন অনেকে। বড় বড় বিপণিবিতান থেকে শুরু করে শপিং মল ও ফুটপাথ কোথাও কম নেই ক্রেতা। এক দোকান থেকে আরেক দোকান ছুটে বেড়াচ্ছেন ক্রেতারা।  

বাজার ঘুরে দেখা যায়, আগের চেয়ে এবার বেড়েছে সব ধরনের সালোয়ার কামিজের সিট কাপড়ের দাম। শাড়ির দামও এবার বাড়তি। এবার ঈদ সামনে রেখে বাজারে এসেছে নতুন ডিজাইনের কাতান, জামদানি, টাঙ্গাইল শাড়ি, আছে সুতি শাড়ির বিশাল সমাহার। এবারও সালোয়ার কামিজের তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন টিভি সিরিয়ালের নামের বাহারি পোশাক। বিক্রেতারা বলছেন, এখন ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থী বেশি। ২০ রমজানের পর থেকে ক্রেতাদের সংখ্যা বাড়বে। 

তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বেশির ভাগ মার্কেটের প্রধান ফটকে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ধাক্কাধাক্কি করে ঢুকতে দেখা গেছে। আর মার্কেটের সামনের সড়কগুলোয় দেখা গেছে যানজট। রাজধানীর নিউমার্কেট, মৌচাক মার্কেট, ফরচুন শপিং মল, বসুন্ধরা সিটিসহ ফুটপাথগুলোও জমতে শুরু করেছে। 

রাজধানীর গাউছিয়া মার্কেটে সকাল থেকেই ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। এই মার্কেটের মৌসুমী ফ্যাশন এর স্বত্বাধিকারী আলমগীর হোসেন বলেন, সকাল বেলায় মার্কেট কিছুটা ফাঁকা থাকলেও দুপুর গড়াতে মার্কেটে ভিড় বেড়েছে। রোজার প্রথম দিকের তুলনায় বিক্রিও কিছুটা বেড়েছে। আমাদের দোকানে ইন্ডিয়ান জয়পুরী শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা, টপস ৪০০ থেকে ৭৫০ টাকা, কাতান ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা, কামিজ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে এক হাজার ১০০ টাকা, কটি ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকা, প্লাজো ২৫০ থেকে ৫৫০ টাকা।

পরিবার নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা মায়িশা বলেন, ঈদের কয়েক দিন আগে ভিড় বেশি হবে। তাই আগেই কেনাকাটা শেষ করার চেষ্টা করছি।

নিউমার্কেটের ইকবাল ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী  উজ্জল আহমেদ বলেন, তার দোকানে শিশু থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণী, নারী-পুরুষ, সব বয়সীর বিভিন্ন নকশা ও কারুকাজ খচিত নতুন নতুন পোশাকের ব্যাপক সমাহার রয়েছে। এর মধ্যে ফোর টাচ, সঙ্গে লং কটিসহ বিভিন্ন ডিজাইনের রুচিসম্মত পোশাক রয়েছে। দাম ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে বলেও দাবি করেন তিনি। ছোট ছেলেদের প্যান্ট, শার্ট, ছোট মেয়েদের বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক এক হাজার থেকে সাড়ে ছয় হাজার টাকা। ছেলেদের শার্ট ৭০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা, টি-শার্ট ২৫০ থেকে এক হাজার টাকা, প্যান্ট এক হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার টাকা, থ্রি কোয়াটার প্যান্ট ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকা, ফতুয়া ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকা, মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের জামা এক হাজার ৩০০ থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকা, পাঞ্জাবি ৮০০ থেকে শুরু করে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত দামের রয়েছে।

ফুটপাথের ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের তিন-চার দিন আগে গার্মেন্টসহ প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা বোনাস পাবেন। সে সময় ভিড় আরো বাড়বে। ঈদ সামনে রেখে বসে নেই মৌসুমি হকাররাও। বিভিন্ন পণ্য নিয়ে ট্রাফিক সিগন্যালে থামা গাড়িগুলোর দিকে ছুটছেন একেকজন। কারো হাতে আতর, কারো হাতে টুপি, কারো হাতে বিভিন্ন ধরনের বইসামগ্রী। যানজটে গাড়িতে বসে থাকা মানুষের কাছে নিয়ে যাচ্ছেন এ পণ্যগুলো ভাসমান হকাররা।

 

আরো খবর

    ট্যাগ নিউজ