ENGLISH ঢাকাঃ সোমবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ০৪:০১

প্রকাশিত : সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ০৩:৫০:৪৭ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

সুন্দর জীবনের জন্য ৩০ টিপস

দ্যা ডেইলি ডন

(প্রতিদিন অন্ততএকবার পাঠ করুন)

সময়,

১. রাত-দিনের যে কোন সময় নির্জন কোন স্থানে একাকী অন্তত ১০মিনিট কাটান ও নিজেকে নিয়ে ভাবুন৷

২. মোবাইলে-গেইম,অপ্রয়োজনীয় গালগপ্প, অতীতের স্মৃতি, বাজে চিন্তা করে আপনার মূল্যবান সময় এবং শক্তি অপচয় করবেন না। ভাল কাজে সময় ও শক্তি ব্যয় করুন।

৩. জীবনের সময় গুলো সমান যায় না, তবুও অধৈর্য না হয়ে ভাল কিছুর অপেক্ষা করতে শিখুন।

৪. অনেকে ফেইসবুক নিয়ে ব্যাপক  সময় নষ্ট করে।ফেইসবুকে আপনার সময় নির্দিষ্ট করুন।কতক্ষণ সময় থাকবেন।

স্বাস্থ্য,

১. ভোরে সূর্য উঠার আগে বিছানা ত্যাগ করুন, সৃষ্টিকর্তার ইবাদত করুন, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন, প্রকৃতির নির্মল পরিবেশে থাকার চেষ্টা করুন।

২.দিনে ঘুমানোর উভ্রাস ত্যাগ করুন, একান্ত বিপদ ছাড়া রাত জাগবেন না, রাত ১১টার মধ্যে অবশ্যই ঘুমিয়ে পড়ুন।

খাদ্য,

১. সকালের নাস্তা (৮টার মধ্যে) রাজার মত করবেন, দুপুরের খাবার (২টার মধ্যে) রাজপুত্রের মত করবেন, এবং রাতের খাবার (৮টার মধ্যে) খাবেন ভিখারীর মত।অবশ্যই রাতে ঘুমানের ২ ঘন্টা আগে খাবার খাবেন।

২. নির্ভরযোগ্য প্রাকৃতিক উপাদানে ঘরে তৈরি খাবার বেশি খাবেন আর প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাবেন।

৩. সবুজ চা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।বিশেষ ভাবে সকালে নাস্তা করার ৩০ মিনিট আগে অন্তত চার গ্লাস পানি পান করুন। তারপর নাস্তা খান।এতে আপনার শরীরের অর্ধেক রোগ বিদায় হয়ে যাবে।

জীবিকা,

১.শতকষ্ট-ব্যথা,নাপাওয়াকে জয় করুন।

২. দিনের শুরুতে আপনার করণীয় গুলো সম্পর্কে মনস্থির করে সুন্দর ভাবে কাজ শুরু করুন, কোন রকম ফাঁকি না দিয়ে কাজের মান শতভাগ রাখার চেষ্টা করুন, কাজকে ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করুন।

৩. কোন কাজ, কোন বিষয় বা সমস্যাকে কঠিন করে ভাববেন না। সকল বিষয়ের সহজ সমাধান চিন্তা করুন।

৪. জীবনের কোন কিছুই অবচয় করা যাবে না। সময়ের সৎ ব্যবহার করুন, রোজগার করে আগে অর্থ সঞ্চয় করুন, তারপর ব্যয় করুন। সঞ্চয়কৃত অর্থ যা বিপদের আপনার কাজে লাগবে।বিকল্প হালার আয়ের ব্যবস্থা করুন, ব্যবসায় করুন।

৫. কেউ আপনার সুখের দায়িত্ব নিয়ে বসে নেই। আপনার কাজই আপনাকে সুখ এনে দেবে। তাই নিয়মিত কাজ করে যান। সাফল্য বা সুখ আপনার আসবেই।

৬. অন্যের জীবনের সাথে নিজের জীবন তুলনা করবেন না। তুলনায় আপনার হতাশা বেড়ে যাবে, পাপের পথে ধাপিত হতে উৎসাহিত হবে।এ জন্য আল্লাহর শোকর আদায় করুন। আপনি অন্যদের চেয়ে ভাল আছেন, এবং বিশ্বাস করুন।

বিপদ,

১. হতাশ হবেন না, স্বপ্ন দেখুন, বাস্তবতা সাথে মিলিয়ে কাজ করে যান।সাফল্য এক সময় আপনার কাছে ধরা দিবেই। ব্যর্থ হলেও এ ক্ষেত্রে হাল ছাড়বেন না। ক্লান্তহীন ভাবে শতবার চেষ্টা করতে থাকুন। সফলতার সূত্র হচ্ছে- ইচ্ছা, স্বপ্ন, পরিকল্পনা, ত্যাগ, ধৈর্য, অধ্যাবসায়। হাল না ছেড়ে, বার বার কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জনের অপর নামই সফলতা।

২. বিপদের দিনে ধৈর্য ধারন করুন। হতাশ হবেন না। সর্ব অবস্থায় আল্লাহর উপর ঈমান রাখুন, একমাত্র তার কাছেই সাহায়্যে চান। আপনার শুভাকাংখীদেরও দোয়া করতে বলুন।

৩. মনে রাখুন জীবনের কোন কোন ভুলের জন্য আপনি ক্ষমা পেয়েছেন। সেসব ভুল আর যেন না হয় তার জন্য সতর্ক থাকুন।

ক্যারিয়ার,

১.চাকুরি, ব্যবসায়, বা কারও সাহায্য আপনার রিজিকের(অন্ন) উৎস নয়। আল্লাহতালা অজানা উৎস হতে আপনার জন্য রিজিকের ব্যবস্থা করে রেখেছেন, এমন বিশ্বাস রাখুন। দুনিয়ার কোনো মানুষ রিজিক থেকে আপনাকে কোনো ভাবে বঞ্চিত করতে পারবে না।

২. প্রতি ৫ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা করুন এবং ওই সময়ের মধ্যেই তা বাস্তবায়ন করুন।

৩.প্রকৃত বিদ্ধান, অভিজ্ঞ, কর্ম দক্ষ লোকের সাথে সময় বেশি ব্যায় করুন। প্রতিদিন নিয়ম করে ধর্মীয়জ্ঞান চর্চা, সংবাদপত্র পাঠ, আইন জান, বিরক্তিহীন-সৃজনশীল কাজে বা কোনো শিক্ষনীয় বিষয়ে সময় ব্যয় করুন। 

৪.কোন ব্যক্তি সব বিষয়ে পারদর্শী হয় না। যে সব জানে, সে আসলেই কিছুই জানে না, এমন লোকের সাথে কম কথা বলাই শ্রেয়। এ শ্রেনীর মানুষ বেয়াদব হযে থাকে।

৫. আপনার অতীতকে শান্ত ভাবে চিন্তা করুন, ভূলগুলো শুধরে নিন। অতীতের জন্য বর্তমানকে নষ্ট করবেন না।

৬. অন্য লোকে আপনাকে কি ভাবছে তা নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার নেই বরং আপনি আাপনাকে নিয়ে কি ভাবছেন সেটা মুল্যায়ন করুন ও সঠিক কাজটি করুন। মনে রাখবেন আপনি সফল হলেই সবাই আপনাকে মূল্যায়ন করবে, এর আগে নয়। কারণ যার আছে, তার সবই আছে, যার নাই, তার কেউ বা কিছুই নাই।

৭. মনে রাখবেন সময় যতই ভাল বা খারাপ হোক তা বদলাবেই। আর সমস্যার মধ্যেই থাকে সকল সম্ভাবনা। তাই কাজ করে যেতে হবে সাফল্য অবশ্যই আসবেই।

সমাজিকতা,

১. কখনো কাউকে ক্ষমতার বাহাদূরী দেখাবেন না।কারো ক্ষমতাই চিরস্থায়ী নয়।নিজেকে একজন সামান্য মানুষ ভাবতে শিখুন।

২. ছোট-বড় সবাইকে সম্মান ও মুল্যায়ন করুন, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করবেন না, সব তর্কে জিততে হবে এমন নয়, তবে মতামত হিসাবে মেনে নিতে পারেন আবার নাও মেনে নিতে পারেন।

৩. উদারতার ক্ষেতে সর্বদা নিজেকে একটি বট বৃক্ষের সাথে তুলনা করুন। মনে রাখবেন আপনার চারপাশের মানুষ ছায়া মনে করে সাহায্যের জন্য আসবে।বিপদে সাহায্যে চাইবে।আপনার সামর্থ থাকলে অবশ্যই সাহায্যে করুন। নতুবা ভদ্র ভাষা না বলুন। তবে কোনো অবস্থায় মন্দ আচরণ করবেন না।

৪. নিজে হাসি খুশি থাকুন, প্রতিদিন অন্তত ৩ জনের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করুন।

৫. বাসায়-অফিসের লোকদের সাথে দরকারি কথা বলুন, নিজের ব্যক্তিত্ব বজায় রাখুন, অন্যকে ঘৃনা করে বা বাজে কাজে সময় নষ্ট করার জন্য সময় নেই, জীবন খুব ছোট, অন্যায় কর্মের জন্য সকলকে ক্ষমা করুন। সময় সুযোগ মত তাকে একা পেলে বুঝিয়ে বলুন যে তার কাজটি ঠিক হয়নি।

৬. গরীবকে সাহায্য করুন। দাতা হোন, গ্রহীতা নয়।

৭. কষ্ট মনের মধ্যে পুষে রাখবেন না। কারণ সময়ের স্রোতে সব কষ্ট ভেসে যায় তাই কষ্টের ব্যাপারে খোলামেলা আলাপ করুন ও ঘনিষ্টদের সাথে শেয়ার করুন।

৮. অসুস্থ হলে আপনার ব্যবসা বা চাকুরী অন্য কেউ দেখভাল করবে না। করবে বন্ধু কিংবা নিকটাত্মীয়রা, তাদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখুন।

৯. প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে আপনার জীবনের জন্য যাদের-শ্রম,ঘাম,মেধা ব্যয় হয়েছে বা হচ্ছে তাদের জন্য দোয়া করুন। সাপ্তাহে অন্তত তাদের খোঁজ খবর নিন, তাদের বিপদে হাত বাড়ান।

 

 

আরো খবর

    ট্যাগ নিউজ

    সর্বশেষ খবর