ENGLISH ঢাকাঃ সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৫:৫১

প্রকাশিত : শনিবার, ১৭ মার্চ ২০১৮ ০৬:১১:২২ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

বাঙালি জাতীয়তাবাদ-স্বায়ত্তশাসন- স্বাধিকার-স্বাধীনতা-বঙ্গবন্ধু-বাংলাদেশ,অতঃপর ইতিহাস......

দ্যা ডেইলি ডন
:: আনিস আহমেদ ::

আজ ১৭ মার্চ।বাঙালি জাতির প্রেরণা পুরুষ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মবার্ষিকী।সারা দেশে দিনটি ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে 'জাতীয় শিশু দিবস' হিসেবে পালিত হচ্ছে।১৯২০ সালের এইদিনে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা, মহান স্থপতি গোপালগঞ্জ মহাকুমার টুঙ্গিপাড়া সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা শেখ লুৎফর রহমান ও মাতা সায়েরা খাতুনের চার কন্যা ও দুই পুত্রের সংসারে বঙ্গবন্ধু ছিলেন তৃতীয়। পিতামাতা ছোটবেলা তাঁকে আদর করে 'খোকা' বলে ডাকতেন। সেই খোকাই একদিন হয়ে উঠেন বাঙালির ইতিহাসে শোষিত-বঞ্চিত জনতার মুক্তির দিশারী। গভীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও অগাধ দেশপ্রেম এবং গণ মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা ও পরম মমত্ববোধের কারণে তিনি বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন । ব্রিটিশ জাতীয় কবি উইলিয়াম শেক্সপিয়ার (১৫৬৪-১৬১৬) বলেছেন," এ জগতে কেউ কেউ জন্মগতভাবে মহান, কেউ মহত্ত্বের লক্ষণ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, আবার কেউ স্বীয় প্রচেষ্টায় মহানুভাবতা অর্জন করে।" বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে উক্ত তিনটি বৈশিষ্ট্যই প্রতীয়মান হয়। ১৯৭৩ সালে আলজির্য়াসে অনুষ্ঠিত ন্যাম সম্মেলনে কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো বলেছিলেন,"আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু শেখ মুজিবকে দেখেছি।"বঙ্গবন্ধুর সাহসী ব্যক্তিত্ব,আপোসহীন নেতৃত্ব, সিদ্ধান্তে অবিচলতায় তিনি হিমালয়ের মতো’।কৈশোর থেকেই শেখ মুজিব ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী। ১৯৩৮ সালে স্কুল কর্তৃপক্ষের আন্যায্য দাবীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কারণে  সাত দিন কারাভোগ করেন। ১৯৩৯ সালে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সংসার আলোকিত করে আসে দুই কন্যা,তিন পুত্র। ১৯৪২ সালে গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল থেকে মেট্রিকুলেশন পাস করে ১৯৪৪ সালে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে আইএ ভর্তি হন। ১৯৪৬ উক্ত কলেজে ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন এবং এই বছরই অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওর্য়াদী সহচর্য লাভ করেন।১৯৪৭ সালে তিনি ইসলামিয়া কলেজ থেকেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাসে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। এ সময় তিনি বার্নার্ড শ, কার্ল মার্ক্স, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামের লেখার সাথে পরিচিত হন। তাদের লেখা পড়ে তিনি নিজেকে আরো শানিত করতে সক্ষম হন। বুঝতে পারেন নিজ জাতির অধিকার আদায়ের প্রয়োজনীয়তা।১৯৪৭ সালে মুসলিম লীগ ত্যাগ করে
নতুন রাজনৈতিক চেতনায় ১৯৪৮ সালে ৪ জানুয়ারি মুসলিম ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন। দেশভাগের কারণে তিনি পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন। এখানে এসে তিনি আবিষ্কার করেন পূর্ব পাকিস্তানের উপর পশ্চিম পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক আধিপত্যের বেড়াজাল। এই আধিপত্যের বেড়াজাল ছিন্ন করতে তিনি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সেই সংগ্রামের প্রথম পদক্ষেপ ১৯৪৯ সালে ২৩ জুন আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন। কারারুদ্ধ অবস্থায় বঙ্গবন্ধু দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত হন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের ন্যায়সংগত দাবীকে সমর্থন করায় কর্তৃপক্ষ তাঁকে বহিষ্কার করে ( ১৪ আগস্ট, ২০১০ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়)। শুরু হয় ভাষা আন্দোলন। তিনি বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার দাবীতে ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ কারাগারে অনশন শুরু করেন। ১৬ ডিসেম্বর,১৯৫৩ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন।১৯৫৪ সালে ফজলুল হক মন্ত্রিসভায় গোপালগঞ্জ আসন থেকে নির্বাচিত হন। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব সামরিক শাসন, ১৯৬২'র এস এম শরীফ শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠে। ৫ ডিসেম্বর ১৯৬৩ সালে রাজনৈতিক গুরু হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মৃত্যুবরণ করে।পূর্ববাংলায় আবির্ভূত হয় বিরাট রাজনৈতিক শূন্যতা।প্রায় তিন বছর দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, ১৯৬৬ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোনীত হন। বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি বাঙালির বাঁচা মরার দাবী ছয় দফা ঘোষনা এবং ২৩ মার্চ লাহোরে বিরোধী দলীয় সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেন। স্বায়ত্তশাসন দাবীতে বাঙালিরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে। আইয়ুব সরকার ভীত হয়ে ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান ৩ জানুয়ারি দন্ডবিধির ১২১ক এবং ১৩১ ধারায় বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে ৩৪ জনের বিরুদ্ধে ’আগরতলা ষড়যন্ত্র মিথ্যা মামলা' দায়ের করে। ১৭ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৬৯ সালে আগরতলা মিথ্যা মামলার প্রত্যাহার ও বঙ্গবন্ধুর নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে পূর্ববাংলার সর্বস্তরের জনগণ তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। ইতিহাসে গণ অভূত্থান নামে পরিচিত। আন্দোলনের তীব্রতা উপলব্ধি করে আইয়ুব সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে আগরতলা মামলা প্রত্যাহার এবং বঙ্গবন্ধুর নিঃশর্ত মুক্তি দেয়।মুক্তির আনন্দে রেসকোর্স ময়দানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্ররা সমাবেশ আয়োজন করে। সেখানেই ডাকসুর ভিপি জনাব তোফায়েল আহমেদ তাঁকে 'বঙ্গবন্ধু' খেতাব প্রদান করেন। ৫ ডিসেম্বর ১৯৬৯ সালে তিনি সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকীতে পূর্ববাংলাকে বাংলাদেশ নামকরণ করেন। ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বাঙালিরা বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ছয় দফা ও  স্বাধিকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন দেন। ফলে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী বাঙালির এই জনরায়কে মেনে নিতে পারেনি। ক্ষমতা হস্তান্তর করতে নানা টালবাহানা শুরু করে। ফলে পূর্ব-পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আর পারস্পরিক সন্দেহ, অবিশ্বাস বাড়তে থাকে। ৩রা মার্চ, ১৯৭১ স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ পল্টন ময়দানে মহাসমাবেশ ডাক দেন।তৎকালীন ডাকসুর ভিপি আসম রব সংগ্রাম পরিষদের পক্ষে বঙ্গবন্ধুকে "জাতির জনক" ও বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক ঘোষণা করেন।এরপর অগ্নিঝরা ৭ ই মার্চ। রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার সামনে তুলে ধরেন ২৩ বছরের শোষণ-বঞ্চনা,বাঙালির অধিকারহীনতার কথা আর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দিকনির্দেশনা।বঙ্গবন্ধু ১১০৫ শব্দে ১৮ মিনিটে রচনা করলেন মহাকাব্য।৭ ই মার্চের ভাষণ বঙ্গবন্ধুকে গণমানুষের নেতা ইতিহাসের মার্কিন সাময়িকী ৫ এপ্রিল,১৯৭ 'রাজনৈতিক কবি' আখ্যায়িত করলেন।রাজনীতির কবি এখানেই প্রথম 'স্বাধীনতা' শব্দটি ব্যবহার করলেন।কবিদের কবি নির্মলেন্দু গুণ বলেছেন,

ভোর হতে জনসমুদ্রের উদ্যান সৈকতে কখন আসবে কবি?........................গগন সুর্য মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর কবিতাখানি। 
এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।

সেই থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের।" বঙ্গবন্ধুর বজ্রকন্ঠ ইয়াহিয়া সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরে কালক্ষেপণ করতে থাকে। ২৫ মার্চ পাকিস্তান হায়েনারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর।২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু জানতেন নিশ্চিত গ্রেপ্তার হবেন। তার প্রেক্ষিতে ২৬ মার্চ ঘোষণা করেন স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধু কারাগারে থাকা অবস্থায় স্বাধীনতা ঘোষনার দিক- নির্দেশনা অনুসরণ করেই সুষ্ঠু ভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা ও বিশ্ব জনমত সৃষ্টির লক্ষে বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে ৬ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা, ৯ সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ নিয়ে ১০ এপ্রিল,১৯৭১ মুজিবনগর অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়।বঙ্গবন্ধুর আপোসহীন নেতৃত্ব আর গণ মানুষকে পরম ভালবাসার সম্মোহনী শক্তির বদৌলতে আমরা পেয়েছি একটি লাল সবুজের পতাকা, বিশ্ব মানচিত্রে স্থান করে নিয়েছে স্বাধীন সার্বভৌম  বাংলাদেশ। কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদ লিখেছেন,"একাত্তরের মার্চে শেখ মুজিব সৃষ্টি করেছিলো শুভ দাবানল,শুভ প্লাবন,শুভ আগ্নেয়গিরি,নতুনভাবে সৃষ্টি করেছিলো বাঙালিদের। ফলে আমরা স্বাধীনতা পেলাম।" বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তান মিয়ানওয়ালী কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ২৯০ দিনের দুঃসহ বন্দিজীবন। মনসতাত্ত্বিকভাবে দুর্বল করার জন্য ইয়াহিয়া নির্দেশে কারাগারে ফাঁসির মঞ্চ ও জানালার পার্শ্বে কবর খোঁড়া দেখে বঙ্গবন্ধু দৃঢ় কন্ঠে বলেছিলেন,"তোমরা আমাকে ফাঁসির পর আমার লাশটা আমার প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে আমার লোকদের কাছে পাঠিয়ে দিও।"আহ! আপোসহীন নেতা,  অগাধ দেশপ্রেম! ৭ ই মার্চের ভাষণ বঙ্গবন্ধুকে গণমানুষের নেতা হতে ইতিহাসের মহানায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করল। রাজনীতির কবি এখানেই প্রথম 'স্বাধীনতা শব্দটি ব্যবহার করলেন।

কবিদের কবি নির্মলেন্দু গুণ বলেছেন, "ভোর হতে জনসমুদ্রের উদ্যান সৈকতে কখন আসবে কবি?........................গগন সুর্য মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর কবিতাখানি। 
এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। সেই থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের।" 

 ২৫ মার্চ  বাঙালির ইতিহাসে কালো রাত। পাকিস্তান হায়েনারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর। ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু জানতেন তিনি নিশ্চিত গ্রেপ্তার হবেন। তার প্রেক্ষিতে ২৬ মার্চ  ঘোষণা করেন স্বাধীনতা। স্বাধীনতা ঘোষনার দিক নির্দেশনা অনুসরণ করেই ১০ এপ্রিল মুজিবনগর অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়।বঙ্গবন্ধু  কারাগারে থাকা অবস্থায় সুষ্ঠু ভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা ও বিশ্ব জনমত সৃষ্টির লক্ষে বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে ৬ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা, ৯ সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়।  বঙ্গবন্ধু-জাতীয়তাবাদ-স্বায়ত্তশাসন-স্বাধিকার-স্বাধীনতা-বাংলাদেশ। বিপ্লবী সরকারের রণকৌশল,নিপুণ দক্ষতা ও সুষ্ঠু পরিচালনায়  ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা পেয়েছি একটি লাল সবুজের পতাকা, বিশ্ব মানচিত্রে স্থান পেয়েছে স্বাধীন-সার্বভৌম  বাংলাদেশ।

কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদ লিখেছেন,"একাত্তরের মার্চে শেখ মুজিব সৃষ্টি করেছিলো শুভ দাবানল,শুভ প্লাবন,শুভ আগ্নেয়গিরি,নতুনভাবে সৃষ্টি করেছিলো বাঙালিদের। ফলে আমরা স্বাধীনতা পেলাম।"বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তান মিয়ানওয়ালী কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ২৯০ দিনের দুঃসহ বন্দিজীবন।  মনসতাত্ত্বিকভাবে দুর্বল করার জন্য ইয়াহিয়া নির্দেশে কারাগারে ফাঁসির মঞ্চ ও জানালার পার্শ্বে কবর খোঁড়া দেখে বঙ্গবন্ধু দৃঢ় কন্ঠে বলেছিলেন,"তোমরা আমাকে ফাঁসির পর আমার লাশটা আমার প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে আমার লোকদের কাছে পাঠিয়ে দিও।"

পাকিস্তান কারাগার থেকে ৮ জানুয়ারি,১৯৭২ মুক্তি পেয়ে লণ্ডন ও ভারত হয়ে বঙ্গবন্ধু ১০ জানুয়ারি স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধু মনোনিবেশ করেন। এজন্য তিনি প্রথমে ভারতীয় বাহিনী প্রত্যাহার করার জন্য ভারত সরকারের সাথে আলোচনা করেন।১২ মার্চ ১৯৭২ ভারতীয় সরকার সেনা প্রত্যাহার করেন। বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী চুক্তি ১৯৭২,জাতিসংঘ মূলনীতি ও ন্যামের পঞ্চশীল নীতির ভিত্তিতে "friendship to all, malice to none" গঠনতন্ত্র ও পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণ করেন।আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করার জন্য বিভিন্ন দেশ সফর করে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।এজন্য তিনি ১৮ অক্টোবর ১৯৭২ সালে 'জুলি ও কুরি' বিশ্ব শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।বঙ্গবন্ধু বাঙালি ও বাংলাকে ভালবাসতেন।১৯৭৪ সালে ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাতে ভাষণ প্রদান করেন।ব্রিটিশ সাংবাদিক রবার্ট ফ্রস্ট বঙ্গবন্ধুকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আপনার শক্তি কোথায়?উত্তরে তিনি বললেন,'' আমি আমার জনগণকে ভালবাসি"আপনার দূর্বল দিক কি?উত্তরে তিনি বলেন , ''আমি আমার জনগণকে খুব ভালবাসি।" তবে বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্নের বাংলাদেশ পরিচালনা করার ক্ষমতা বেশী দিন পাননি। ১৫ আগষ্ট ১৯৭৫ (বাংলা ২৯ শ্রাবণ, ১৩৮২) রোজ শুক্রবার কালো রাতে ঘাতকের তপ্ত বুলেটে স্বপরিবারে ১৭ নিহত হন বাঙালীর এই মহান নেতা আর ইতিহাসের মহানায়ক।এ জঘন্যতম হত্যাকান্ডের মাধ্যমে ঝরে গেল ইতিহাসের নক্ষত্র,বাঙালি হারালো মহান নেতা, প্রিয় জাতির পিতা। 
"যতদিন রবে পদ্মা মেঘনা গৌরি যমুনা বহমান,
ততদিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।"

এবার আসুন জেনে নেওয়া যাক  বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন কেন জাতীয় শিশু দিবস? বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিশুরাই হবে সোনার বাংলা গড়ার যোগ্য কারিগর। শিশুদের কল্যাণ ও নিরাপত্তায় বঙ্গবন্ধু ২২ জুন ১৯৭৪ জাতীয় শিশু আইন জারী করেন। 
  ২৩ এপ্রিল প্রজাতন্ত্রের প্রথম রাষ্ট্রপতি মুস্তফা কামাল আতাতুর্কর জন্মদিন এবং ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু জন্মদিন ১৪ নভেম্বর জাতীয় শিশু দিবস পালিত হয়।জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন যা ১৯৯৭ সাল হতে পালিত হয়।২০০১ সালে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০০৯ সাল হতে পুনরায় দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে শিশু দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
বাঙালী জাতির জনক, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি,স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর ৯৯ তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদনের সাথে সাথে মহান নেতার সংগ্রামী জীবনের আদর্শ,চারিত্রিক দৃঢ়তা ও হিমালয়সম মানবিকতা অনুসরণে সব শিশুর জীবন নিরাপদ ও সুন্দর হউক।

আরো খবর

    ট্যাগ নিউজ

    সর্বশেষ খবর