ENGLISH ঢাকাঃ বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:১৬

প্রকাশিত : বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ০২:৫৪:১৪ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

কঠোর হবে আওয়ামী লীগ

দ্যা ডেইলি ডন

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর দলটির 'নমনীয়' কর্মসূচি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ক্ষমাসীন আওয়ামী লীগ। সেইসঙ্গে আবারও আন্দোলন-সংগ্রামের নামে দেশজুড়ে জ্বালাও-পোড়াও, খুন-সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা-নাশকতার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

আওয়ামী লীগ মনে করছে, একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় নিয়ে আগামী জুন থেকে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টায় লিপ্ত হতে পারে বিএনপি। ওই সময়ের মধ্যে গ্রেনেড হামলা মামলার রায় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসঙ্গে দুর্নীতির মামলায় কারারুদ্ধ খালেদা জিয়ার আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে দেশজুড়ে অস্থির পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে বিএনপি। এ কারণেই বিএনপির চলমান নমনীয় আন্দোলনকে অনেকটা সন্দেহের চোখে দেখছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর প্রভাবশালী সদস্য ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, সরকার ঠাণ্ডা মাথায় পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে। সেইসঙ্গে কোনো ধরনের উস্কানির ফাঁদে পা না দেওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের দলীয়ভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শক্ত আন্দোলনে নামার জন্য নৈতিক সাহস পাচ্ছে না বিএনপি। এ জন্যই তাদের নেতাকর্মীরা বর্তমানে নমনীয় আন্দোলন করছেন।

তবে আগস্টের শেষের দিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা আবারও উচ্ছৃঙ্খল আন্দোলনে যেতে পারেন বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য । ওই সময়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসবে। আর ওই নির্বাচনে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণের বেলায় অনিশ্চয়তা তৈরি হলে আবারও আন্দোলন-সংগ্রামের নামে দেশজুড়ে জ্বালাও-পোড়াও, খুন-সহিংসতা এবং বিশৃঙ্খলা-নাশকতায় জড়িয়ে পড়তে পারেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান জানিয়েছেন, বিএনপি ইচ্ছা করেই নমনীয় আন্দোলন করছে- এমনটা ভাবার কোনো সুযোগ নেই। তারা যে কোনো সময় যে কোনো অঘটন ঘটাতে পারে। বিশেষ করে একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামের নামে আবারও দেশজুড়ে জ্বালাও-পোড়াও, খুন-সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা-নাশকতাসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করতে পারে।

দলের নীতিনির্ধারক নেতারা এরই মধ্যে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গেও কয়েকজন নেতার অল্প-বিস্তর আলোচনা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতা বলেছেন, দুর্নীতির মামলায় কারারুদ্ধ খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির বর্তমান আন্দোলনে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তায় নেই আওয়ামী লীগ। দলের উচ্চপর্যায় থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর বিএনপিকে নিরুত্তাপ কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হচ্ছে। আন্দোলন-সংগ্রামের নামে জনগণ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের চেষ্টা হলে সরকার যে কোনো মূল্যে পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে। এ জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত থাকবে। সেইসঙ্গে দলের নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকবেন।
 আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা 'বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতির কারণে সাজাভোগ করছেন' এ কথা জানিয়ে সাংগঠনিকভাবে এখন জনমত তৈরি করতে ১৫টি টিমে বিভক্ত হয়ে দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফর করছেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দিচ্ছেন।

দলটির কয়েকজন নেতা বলেছেন, খালেদা জিয়ার কারাদেণ্ডর রায়ে বিএনপি নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। রায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন চালানোর মতো নৈতিক শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। ফলে শক্তি-সাহসহীন দলটি 'অহিংস' পথে থাকতে বাধ্য হয়েছে। এটা তাদের নৈতিক পরাজয়। তাদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা।

আরো খবর

    ট্যাগ নিউজ

    সর্বশেষ খবর