ENGLISH ঢাকাঃ সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৫:৫০

প্রকাশিত : সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ০৩:১৪:২৫ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

‘ডু অর ডাই পলিসি’ নিয়ে এগোচ্ছে আওয়ামী লীগ

দ্যা ডেইলি ডন

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে টানা তিন মেয়াদে সরকার গঠন করাই এখন আওয়ামী লীগের লক্ষ্য। তাই সব ধরনের চাপ উপেক্ষা করে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে দলটি। কারন, এ নির্বাচন আওয়ামী লীগের রাজনীতির বাঁচা-মরার নির্বাচন। এ জন্য ‘ডু অর ডাই পলিসি’ নিয়ে এগোচ্ছে দলটি।  দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানা গেছে।

দলের শীর্ষস্থানীয় ওই নেতারা জানান, দেশে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে একাদশ সংসদ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ চ্যালেঞ্জে বিজয়ী হয়ে টানা তিন মেয়াদে সরকার গঠন করতে চায় আওয়ামী লীগ। সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন করে জিততে চায় দলটি। এ জন্য নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখায় কোনো পরিবর্তন আনার চিন্তাভাবনা নেই। 

দলের নেতারা বলছেন, আগামী সেপ্টেম্বরের শেষার্ধে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত হবে নির্বাচনকালীন সরকার। ওই সরকারে ছোট আকারের মন্ত্রিসভার প্রধান থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি বলে দলটির কোনো প্রতিনিধি রাখা হবে না। নির্বাচনকালীন বিএনপির প্রত্যাশিত ‘নির্দলীয় সরকার’ কিংবা ‘সহায়ক সরকারের’ গঠনের পথে হাঁটবে না আওয়ামী লীগ। এ জন্য বিএনপি আন্দোলন শুরু করলে তা দমনে সর্বোচ্চ কঠোরতা প্রদর্শন করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি দলের কয়েকজন নেতা জানান, আগামী নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জেল থেকে বের হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বর্তমানে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তিনি জেলে রয়েছেন। এ মামলায় জামিন পেলেও দেখা যাবে অন্য কোনো মামলায় আবার জেলে যেতে হচ্ছে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় এখন ঘোষণার অপেক্ষায়। কিছু দিনের মধ্যেই ওই মামলায় খালেদা জিয়ার রায় হবে। এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে আরও কিছু মামলার রায় অপেক্ষাধীন। সব মিলিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণ অনিশ্চিত বলেই মনে করছেন সরকারি দলের ওই জ্যেষ্ঠ নেতারা।  অন্যদিকে দলের চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে বিএনপির চলমান আন্দোলন দিনে দিনে আরও কঠোরভাবে মোকাবিলার সিদ্ধান্ত রয়েছে সরকারের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে রাজশাহীর জনসভায় বলেছেন, ‘বিএনপি নেত্রী এতিমের টাকা চুরি করে জেলে গিয়েছে। তাই তার জন্য আন্দোলন চোরের জন্য আন্দোলন।’ তাই দেশে আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে বিএনপিকে আন্দোলন জমাতে দেবে না সরকার। এ ছাড়া দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার ফলে তার বিদেশি বন্ধুরাও নৈতিক জায়গা থেকে এ বিষয়ে সরকারকে তেমন একটা চাপ দিতে পারছেন না। কারণ ইউরোপ-আমেরিকাসহ পশ্চিমা অনেক দেশেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স রয়েছে। রাষ্ট্রীয় নীতির কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে খালেদা জিয়ার বিষয়ে কিছুই বলতে পারছে না দেশগুলো।

বিএনপির আন্দোলন মোকাবিলায় সরকারের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, আমরা কোনো বাড়াবাড়ি করব না। যেটা করার দরকার, তার চেয়ে কমও কিছু করব না। দেশে আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে যা যা করার দরকার, তাই করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে কাউকে মুক্ত করার নজির পৃথিবীতে কোথাও কি আছে? এটা আদৌ কি সম্ভব? এটা সম্ভব নয় জেনেও বিএনপি আদালতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়। জনগণের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায়। তাদের বিরুদ্ধে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য যা করণীয় তাই করবে। এ ক্ষেত্রে পুলিশ বা সরকারকে দোষারোপ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে জেল থেকে মুক্ত করতে পারবে না বিএনপি।

আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন, এতিমের টাকা আত্মসাতের দায়ে খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার ফলে আন্দোলনের নৈতিক শক্তি পাচ্ছে না বিএনপি। যে কারণে তাদের আন্দোলন জমছে না। অন্যদিকে আরেক পক্ষের নেতারা মনে করেন, রেসে নেমেই কেউ সর্বোচ্চ শক্তিতে দৌড়াতে শুরু করে না। বিএনপি শুরুটা করেছে আস্তে-ধীরে; কিন্তু সামনে মরণ কামড় দেওয়ার চেষ্টা করবে। সরকার অবশ্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। কোনোভাবেই দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেওয়া হবে না।

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের আন্দোলন করতে পারার সক্ষমতা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতাদের মনে। এ বিষয়ে দলটির এক নেতা বলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেই বিএনপির সংস্কারপন্থি মান্নান ভূঁইয়া গ্রুপের নেতা। তাকে খালেদা জিয়াই ঠিকমতো বিশ্বাস করেন না। আরেক নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ, অতীত ইতিহাস থেকে দেখা গেছে, তার বুদ্ধিতে যেই চলেছে তারই পতন হয়েছে। তা হলে বিএনপি আন্দোলন করবে কার কথায়? এ ছাড়া বিএনপির শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। এ ব্যাপারে সরকারি দলের নেতাদের কাছে সুস্পষ্ট খবর রয়েছে।

দেশের সার্বিক রাজনীতির বিষয়ে আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, আওয়ামী লীগ এখন পুলসিরাতের সুতোর ওপর দিয়ে হাঁটছে। আমাদের পেছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই। আ.স

আরো খবর

    ট্যাগ নিউজ

    সর্বশেষ খবর