ENGLISH ঢাকাঃ বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৭:৫১

প্রকাশিত : শনিবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৭:৪৯:২৯ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

বিএনপির সমাবেশে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি

দ্যা ডেইলি ডন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে প্রায় এক যুগ ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি। পাশপাশি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে চূড়ান্ত আন্দোলনে নামার আগে ঢাকায় সাংগঠনিক শক্তির প্রমাণ দিতে এই সমাবেশে ব্যাপক লোক সমাগমও ঘটাতে চায়। এই সমাবেশে ব্যাপক লোক সমাগম নিয়ে আশাবাদী দলটির শীর্ষ নেতারা। 

বিএনপি নেতারা জানান, সবসময় রাজধানীতে বড় কোনো সমাবেশের হলে ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো থেকে নেতাকর্মীরা অংশ নেন। দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে অন্যবারের চেয়ে আরো বেশি নেতাকর্মীর আগমন ঘটবে।
গত ২০ জুলাই বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে নয়াপল্টনে দীর্ঘদিন পর জনসভা করেছিল বিএনপি। মাত্র কয়েক ঘণ্টার নোটিশে সেখানেও হাজার হাজার নেতাকর্মীর ঢল নেমেছিল। সমাবেেশে ব্যাপক লোকসমাগম ঘটিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে চলমান আন্দোলনে নতুন মাত্রা দিতে চায় দলটি। এছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য একদফা দাবি ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু কর্মসূচির বার্তাও দেওয়া হতে পারে।

দলটির সূত্রে জানা গেছে, সমাবেশে লোক সমাগমের জন্য ঢাকাসহ আট মহানগর বিএনপির সকল অঙ্গসংগঠন ও জেলাগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশপাশি দলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা প্রস্ততি সভাও করেছেন। ঢাকার আশেপাশের জেলাগুলো থেকে এরই মধ্যে বিপুল নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে এসে উপস্থিত হয়েছেন। অনেকে শুক্রবার রাতেই ঢাকায় অবস্থান নিয়েছেন। 

শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে শুক্রবার রাতেই ঢাকায় চলে এসেছেন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান। তিনি বলেন, ‘বিএনপির জনসভার কথা শুনলেই আওয়ামী লীগ সরকার ভয় পায়। তাই আগেই ঢাকায় চলে এসেছি। কেননা আওয়ামী লীগ সরকারকে হটাতে আজকের জনসভাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আজকের জনসভা থেকে দেশনেত্রী ও মাদার অব ডেমোক্রাসি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সিনিয়র নেতৃবৃন্দ নতুন বার্তা দেবেন।’ 

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদুর রহমান সুমন বলেন, ‘আমাদেরকে জনসভায় শরিক হওয়ার জন্য কেন্দ্র থেকে মৌখিকভাবে বলা হয়েছে। এই জনসভা সফল করতে আমরা নেতাকর্মীদের নিয়ে উপস্থিত হয়েছি।’

সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে এবং দলের সিনিয়র নেতারা বক্তব্য দেবেন। সমাবেশ সফল করার জন্য বিএনপির সিনিয়র নেতারাও দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। সমাবেশ সফল করতে সংশ্লিষ্ট নেতাদের সাথে কথা বলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পাশপাশি সকল অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সাথে নিয়ে বৈঠকও করেছেন। নেতাকর্মীদের বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুনের পাশাপশি নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষ বহন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
সমাবেশস্থল ও আশে পাশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেতাদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়েছে।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমাদের সমাবেশে ব্যাপক লোকসমাগমও হবে এবং সফল হবে।

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শনিবার দুপুর ২টায় সমাবেশ শুরু হবে। সমাবেশে জনতার স্রোত নামবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। আমাদের আবেগ অনুভূতির জায়গা হচ্ছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আজকে তিনি কারাগারে। তাকে ছাড়া আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করতে হচ্ছে। তার মুক্তির দাবিতে নেতাকর্মীরা দলে দলে সমাবেশে যোগ দেবেন, এটাই স্বাভাবিক।’

 

আরো খবর

    ট্যাগ নিউজ

    সর্বশেষ খবর