ENGLISH ঢাকাঃ মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১৮, ০৫:৫৬

প্রকাশিত : সোমবার, ০১ জানুয়ারী ২০১৮ ০৫:১০:২০ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

নতুন বছর হবে জনগণের জন্য স্বস্তির : অর্থমন্ত্রী

দ্যা ডেইলি ডন

অর্থমন্ত্রী  আবুল মাল আবদুল মুহিত আশা প্রকাশ করে বলেছেন, নতুন বছরটি হবে জনগণের জন্য স্বস্তির এবং অর্থনীতির জন্য ভালো বছর। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আগামী বাজেট উচ্চাভিলাষী হবে না। কোনো ধরনের করারোপ করা হবে না। জনগণ চাপে পড়ার মতো পদক্ষেপ থাকবে না। বরং এমন কিছু ব্যবস্থা থাকবে, যাতে জনগণ খুশি হয়। চলতি অর্থবছর মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার সাড়ে ৭ শতাংশ অর্জিত হবে বলেও আশা করেন তিনি।

নতুন বছরের শুরুতে ব্যাংক খাত নিয়ে সুসংবাদ দিলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ব্যাংক খাতের সার্বিক পরিস্থিতির উন্নয়নে একটি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে। আগামী দুই মাসের মধ্যে তা প্রণয়ন করা হবে। তবে এ পরিকল্পনায় কী থাকছে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি। এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী বলেন, ওয়েট অ্যান্ড সি। এখন কিছু বলা যাবে না। রোববার সচিবালয়ে তার দপ্তরে নতুন বছর সামনে রেখে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ডিসেম্বরেই হবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক। তার বিশ্বাস, প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি এবার নির্বাচনে অংশ নেবে এবং আওয়ামী লীগ ফের ক্ষমতায় আসবে। গত নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় দলটির কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপি একটি 'স্টুপিড' দল। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে স্টুপিড লিডারশিপ অভিহিত করে তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে আমরা (আওয়ামী লীগ) নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম তাদের। কিন্তু তারা আসেনি। 

এই আলোচনায় রোহিঙ্গা ইস্যুও। এ বিষয়ে মুহিত জানান, রোহিঙ্গাদের কারণে অর্থনীতিতে চাপ আসবে না। কারণ, তাদের জন্য বিদেশ থেকে সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি দেখভাল করছেন। সম্প্রতি কুয়েতের কয়েকটি সংস্থার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দেশটি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের জন্য রাখাইনে স্বতন্ত্র একটি রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। 

নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন নিয়ে আগের অবস্থা থেকে সরে এসেছ অর্থমন্ত্রী জানান, ভ্যাটের দুটি হার হবে। এ জন্য আইন সংশোধন করা হবে। নতুন আইনে সর্বক্ষেত্রে ভ্যাটের একই বা অভিন্ন হার (১৫ শতাংশ) আরোপের প্রস্তাব করা হয়। এটা নিয়ে ব্যবসায়ীদের আপত্তির কারণে শেষ মুহূর্তে দুই বছরের জন্য আইনটি স্থগিত করেছে সরকার। 

দারিদ্র্য বিমোচনে বর্তমান সরকারের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই সরকারের প্রতি জনগণের অনেক উচ্চাশা রয়েছে। বর্তমান সরকার জনগণের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। সে জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা আরও বাড়ানো হবে। 

সরকারি চাকরিজীবীদের বয়সসীমা ৬২-তে উন্নীত করার প্রস্তাবের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশের জনগণের গড় আয়ু বেড়ে ৭১ হয়েছে। এ বিবেচনায় চাকরির বয়সসীমা আরও বাড়ানো উচিত। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব করেছি। আশা করছি, তিনি সম্মতি দেবেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী জানান, কোনো ব্যাংক ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, সরকার এ খাতে নজরদারি বাড়িয়েছে। ফলে আস্থার সংকট হবে না। আমানতকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। 

বেসরকারি খাতের ফারমার্স ব্যাংক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উদ্যোক্তারা এই ব্যাংকটি শেষ করে দিয়েছে। বিশেষ করে সদ্য পদত্যাগকারী ব্যাংকটির চেয়ারম্যান মহীউদ্দীন খান আলমগীর এর নেপথ্যে ছিলেন বলে স্বীকার করেন তিনি। তিনি বলেন, আমার ব্যক্তিগত অভিমত হলো, অন্য ব্যাংকের সঙ্গে ফারমার্স ব্যাংক একীভূত হওয়া উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে পারে। তবে ফরামার্স ব্যাংক নিয়ে কোনো ঝুঁকি দেখেন না তিনি। কারণ, সরকার এ ব্যাংকটির ওপর বিশেষ নজর রেখেছে।

loading...

আরো খবর

    ট্যাগ নিউজ

    loading...

    সর্বশেষ খবর