ENGLISH ঢাকাঃ শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮, ০৯:২৮

প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ০৫:০৩:২৬ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

সাত ব্যাংকে মূলধন ঘাটতি ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি

দ্যা ডেইলি ডন

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন,  গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের সাতটি ব্যাংকে মূলধন ঘাটতি নয় হাজার ৪১৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, রূপালী, জনতা ও বেসিক এই চার ব্যাংকের ঘাটতি সাত হাজার ৬২৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা। আর বেসরকারি কমার্স, ফারমার্স ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের মোট মূলধন ঘাটতি এক হাজার ৭৯১ কোটি ২০ লাখ টাকা।

সোমবার জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সাংসদ আবদুল মতিনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। 

অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে সোনালী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি তিন হাজার ১৪০ কোটি ৪১ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংকের ঘাটতি ৬৮৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা, জনতা ব্যাংকের ঘাটতি একহাজার ২৭২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, বেসিক ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দুই হাজার ৫২২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ঘাটতি ২৩১ কোটি ৩১ লাখ টাকা, ফারমার্স ব্যাংকের ঘাটতি ৭৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা আর আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের ঘাটতি এক হাজার ৪৮৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে ২০০৫-২০০৬ অর্থবছর থেকে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছর পর্যন্ত সরকার ১০ হাজার ২৭২ কোটি টাকার পুনমূলধনীকরণ সুবিধা দিয়েছে। যা ইতিমধ্যে ব্যাংকগুলোতে মূলধন হিসাবায়নে যুক্ত হয়েছে।

এ ছাড়া ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকে প্রভিশন ঘাটতি ছিল সাত হাজার ৫৬৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এ সময়ে বেসরকারি ব্যাংকে উদ্বৃত্ত প্রভিশন রয়েছে এক হাজার ৭৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। সামগ্রিকভাবে মোট ঘাটতি প্রভিশনের পরিমাণ ছিল ছয় হাজার ৩৪৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সোনালী ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি দুই হাজার ৯০০ কোটি ৯১ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংকের এক হাজার ২৪৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, বেসিক ব্যাংকের তিন হাজার ৪২১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ১৯৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংকের ঘাটতি ৮৬১ কোটি ৬১ লাখ টাকা, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ১৫৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ৮৯ কোটি ৯ লাখ টাকা।

এদিকে গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্টম্ফীতি দুই দশমিক ১৮ শতাংশ বেড়েছে। তবে, খাদ্য বহির্ভূত খাতে মূল্যস্ম্ফীতি কমায় সামষ্টিক মূল্যস্টম্ফীতি কিছুটা কমেছে বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। 

সোমবার জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাজেট বাস্তবায়ন ও আয়-ব্যয়ের গতিধারা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিশ্নেষণ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রতিবেদনটি সময়মত সংসদে উপস্থাপন করতে না পারায় অর্থমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেন।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী গত বছরের প্রথম প্রান্তিকে খাদ্যে মূল্যস্টম্ফীতি ছিলো ৪ দশমিক ৫৬, যা এ বছরের একই সময় ২ দশমিক ১৬ বৃদ্ধি পেয়ে চলতি বছরের প্রথম ৬ দশমিক ৭২ এ দাঁড়িয়েছে। এ সময় খাদ্য বহির্ভূত খাতের মূল্যস্টম্ফীতি কমে যাওয়ায় সামষ্টিক মূল্যস্টম্ফীতি গত বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৫ দশমিক ৭১ শতাংশ থেকে ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

সামষ্টিক মূল্যস্টম্ফীতি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে খাদ্য মূল্যস্টম্ফীতি বাড়লেও খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্টম্ফীতি অনেনখানি কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল, সাবলীল পণ্য সরবরাহ পরিস্থিতি এবং নিয়ন্ত্রিত মুদ্র সরবরাহের প্রভাবে মূল্যস্টম্ফীতি সহনীয় পর্যায় রয়েছে। দেশের আর্থ-সামাজিক কর্মকৌশলে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও প্রত্যাবাসন ইস্যুটি নতুন করে যোগ হয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

দেশের অর্থনীতি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, 'দেশ থেকে মুদ্রা পাচার হয়ে যাচ্ছে, দেশের অর্থনীতিতে সামনে দুর্দিন; এ ধরনের প্রকাশিত খবর তথ্যভিত্তিক নয়। এ ধরনের সংবাদ প্রকাশকে তিনি নৈরাশ্যবাদীদের কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেন। 

বিকেল সাড়ে চারটায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠক শুরু হলে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

loading...

আরো খবর

    ট্যাগ নিউজ

    loading...

    সর্বশেষ খবর