ENGLISH ঢাকাঃ রোববার, ২১ অক্টোবর ২০১৮, ০২:৩২

প্রকাশিত : বুধবার, ২৫ জুলাই ২০১৮ ০৯:০৯:৫৬ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

বড় অঙ্কের ঋণ দিয়ে বেকায়দায় ব্যাংক খাত

দ্যা ডেইলি ডন

২০১৭ সালে বিতরণ করা মোট ঋণের প্রায় সাড়ে ৫৭ শতাংশই বড় ঋণ। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ঋণের ৪০ শতাংশ, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ৬৫ শতাংশ, বিশেষায়িত ব্যাংকের ৪৭ শতাংশ এবং বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ৭৩ শতাংশ বড় ঋণ হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। ২০১৬ সালে ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের ৫৮ শতাংশ ছিল বড় ঋণ। যা অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির পথে বাধা সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট ( বিআইবিএম) এর এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

 বড় অঙ্কের ঋণ বিতরণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় বেড়ে গেছে আমানত সংগ্রহের ঝুঁকি। বাড়ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। উপযুক্ত মনিটরিং বা তদারকি না থাকায় সুযোগ সন্ধানীরা এই সুযোগের সৎ ব্যবহার করছেন বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

ব্যাংকাররা বলছেন, বড় অঙ্কের ঋণ দিয়ে অনেক ব্যাংকই এখন বেকায়দায় আছে। বেশির ভাগ বড় ঋণগ্রহীতা টাকা পরিশোধ করতে পারছেন না। এতে ব্যাংকিং খাতে বেড়ে যাচ্ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ।

এবিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সহজ উপায়ে বেশি লাভ করার প্রবণতার কারণে বিপাকে পড়ছে ব্যাংকগুলো। ছোট ঋণের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি পরিশ্রম হয় ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। সে কারণে একই জায়গায় বেশি ঋণ দিতেই স্বাচ্ছন্দবোধ করেন তারা। ফলে আমানত সংগ্রহের ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং খেলাপির মতো দুর্ঘটনা ঘটে। ছোট অঙ্কের ঋণ গ্রহীতাদের মধ্যে পরিশোধের আগ্রহ বেশি থাকে। কোনো সময় যদি তারা ডিফল্টও করে বা অর্থাদি পরিশোধে অক্ষমতা দেখায় তাহলে ব্যাংককে খুব বেশি বেগ পেতে হয়না। কিন্তু যখন কোনো বড় ঋণ গ্রহীতা অক্ষমতা প্রদর্শন করে তাহলে পুরো ব্যাংক ঝুঁকির মুখে পড়ে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা আজিজুর রহমান বলেন, বড় অংকের ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের উপর চাপ থাকতে পারে। রাজনৈতিক চাপও অনেক সময় লক্ষ্য করা যায়। ছোট অঙ্কের ঋণ দিতে ব্যাংকগুলোকে বেশি ঝামেলা পোহাতে হয়। এর কারণে ছোট অঙ্কের ঋণ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেন তারা। ফলে খেলাপির মতো বড় বড় সমস্যা তৈরি হয়। এক্ষেত্রে নিজেরাই নিজেদের হুমকির মুখে ফেলছেন। এই সমস্যাগুলো সমাধানে উপযুক্ত তদারকির কোনো বিকল্প নেই বলেও মনে করেনএই অর্থনীতিবিদ।

জনতা ব্যাংক ইমামগঞ্জ কর্পোরেট শাখার মোট ঋণের ৯৮ শতাংশই একটি গ্রুপের কাছে আটকা। যার সবই এখন খেলাপি হয়ে পড়েছে।

ক্রিসেন্টের কাছে জনতা ব্যাংকের পাওনা ২ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা। বিদেশে রপ্তানির ১ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা আটকা রয়েছে। সব মিলিয়ে গ্রুপটি সরকারি ব্যাংক ও সরকারের তহবিল থেকে মাত্র পাঁচ বছরেই নিয়ে নিয়েছে ৫ হাজার ১৩০ কোটি টাকা।

অনেক সময় প্রফিট টার্গেট বা লাভের লক্ষমাত্রা অর্জনের চাপ থেকে বড় অঙ্কের ঋণ বিতরনের চাহিদা বেশি বলে মনে করেন সাবেক এই গভর্ণর।

এর ফলে অল্প সংখ্যক লোকের কাছে দেশের সম্পদ কুক্ষিগত হয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দেশের ছোট ও মাঝারি ব্যাবসায়ীরা। এই সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সকল ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়াতে হবে। নতুন উদ্যোগতা সৃষ্টি ও ছোট উদ্যোক্তাদের উপরের দিকে টেনে তোলার বিষয়টি দায়িত্বের সঙ্গে নিতে হবে বলেও মনে করেন ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ।

এবিষয়ে বিআইবিএমের সুপারনিউমারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘গ্রাহকদের মানসিকতার পরিবর্তন হলে কোনও ঋণ খেলাপি হবে না। এতে খেলাপি ঋণ অনেকাংশে কমে আসবে। ব্যাংকের ঋণ খেলাপি রেখে অনেকে বিভিন্ন দেশে বিজনেস ক্লাসে ঘুরে বেড়ায়। নির্দিষ্ট এলাকায়, নির্দিষ্ট লোককে বাছ-বিচারহীনভাবে ঋণ দেওয়ার কারণে একটি বড় অংশ খেলাপি হচ্ছে।’

 সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, ‘ঋণ দেওয়ার আগে গ্রাহকদের ৬ মাসের ব্যাংক লেনদেন খতিয়ে দেখতে হবে। খেলাপি ঋণ মনিটরিংয়ে ডাটা ব্যাংক করতে হবে। গৃহঋণের বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কেননা, আইনজীবীরা জমি সংক্রান্ত অনেক তথ্য দেন, যা সঠিক নয়। অবশ্যই সরেজমিন পরিদর্শন করে ঋণ দিতে হবে।’
সূত্র : অর্থ সূচক

 

আরো খবর

    ট্যাগ নিউজ